বিড়ালের এতিমখানা!

বিড়ালের এতিমখানা!

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ । আপডেট ১০:৪৮

আমরা হরহামেশাই এতিমখানার নাম শুনে থাকি। যাদের মা অথবা বাবা নেই, তারা এখানে থেকে পড়াশোনা করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেন। কিন্তু আপনি কি কখনও বিড়ালের এতিমখানার নাম শুনেছেন। না শুনে থাকলেও এবার শুনতে পারেন। কারণ ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা দ্বীপের পারুং এলাকার দিতা আগুস্তা নামের এক গৃহিণী বিড়ালের এতিমখানা খুলেছেন। যা ইতমধ্যেই বিশ্বব্যাপী আলোচনায় উঠে এসেছেন। গত চার বছর আগে তিনি এই বিড়ালের এতিমখানা চালু করেন। এই কাজে তাকে সহায়তা করেন তার স্বামী মোহামাদ লুতফি। সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এক ভিডিও প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে বিড়ালের প্রতি দিতা আগুস্তার ভালোবাসার কথা। বর্তমানে তার বাড়িতে আছে ২৫০টির বেশি বিড়াল। বাড়ির সব জায়গায়ই বিড়ালের ছড়াছড়ি। ক্ষুধা লাগলেই তারা ডাকাডাকি শুরু করে। দিতা আগুস্তা তখন একটি ট্রেতে করে খাবার নিয়ে আসেন তাদের জন্য। খাবার দেওয়ার পরই বিড়ালগুলো শান্ত হয়ে খেতে শুরু করে। এরপর তাদের বিশ্রামের জন্য ঘরের দেয়ালে তৈরি করে দেওয়া কাঠের তাকে গিয়ে চুপটি করে শুয়ে থাকে। দিনের একটা সময়ে বিড়ালগুলো খেলায় মেতে ওঠে দিতা আগুস্তার সঙ্গে। বিড়ালগুলোর সঙ্গে খেলা করা পছন্দের কাজ দিতার। বিড়ালগুলো পছন্দ করে তার সঙ্গ।  দিতা জানান, রাস্তায় অসুস্থ বিড়াল দেখলেই মায়া হয় তার। তিনি সেগুলো নিয়ে আসেন নিজের বাড়িতে। তাদের অন্তর থেকেই ভালোবাসেন তিনি। তবে সুস্থ বিড়াল ঘরে আনেন না তিনি। তার ভাষ্য, সুস্থ বিড়ালগুলো নিজেরাই বাঁচতে পারবে। সুযোগ হে মাঝে মধ্যে তাদেরও খাবার দেন তিনি। দিতা জানান, অন্তর থেকেই অসুস্থ বিড়ালগুলোকে ভালোবাসেন। রয়টার্স বলছে, দিনে দুইবার বিড়ালের বর্জ্য পরিষ্কার করেন ওই দম্পতি। এজন্য অবশ্য ছয় জন কর্মী সহায়তা করেন তাদের। বিড়ালের খাবার, ওষুধ এবং অন্যান্য কারণে তার প্রতিদিনের ব্যয় প্রায় ছয় হাজার টাকা। ওই টাকা নিজেদের তহবিল থেকেই ব্যয় করেন তারা। কারও সহায়তা নেন না এখনো। সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কায় কোনও বিড়ালকে বন্ধ্যা করা হয় না এই এতিমখানায়। অবশ্য কেউ দত্তক হিসেবে নিতে চাইলে তাকে স্বাগত জানান তারা। তবে যে বিড়ালগুলো বিকলাঙ্গ সেগুলো সারা জীবনই থাকতে পারে এতিমখানায়।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading