বাম জোটের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত ২৬ কালো পতাকা মিছিল পণ্ড
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ । আপডেট ১৯:৩০
সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে মিছিল পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ। তবে এসময় পুলিশের সঙ্গে বাম রাজনৈতিক জোটের নেতাকর্মীদের ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছে বলে বাম জোটের নেতারা দাবি করেছেন।
জানা গেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রথম বার্ষিকীকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করতে সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করে বাম গণতান্ত্রিক জোট। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কালো পতাকা মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে রওনা হন জোটের নেতা-কর্মীরা। পথে কদম ফোয়ারার সামনে পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে তারা এগিয়ে যান। বেলা ১টার দিকে মৎস্য ভবনের সামনে আবার বাধার মুখে পড়েন বাম জোটের নেতা-কর্মীরা। তারা সেখানকার ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে চাইলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে মিছিল থেকে ইঁটপাটকেল ছুড়ে মারার অভিযোগ করে পুলিশ মিছিলকারীদের ওপর লাঠি চার্জ করে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেন। এতে পদযাত্রা পণ্ড হয়ে যায়। এসময় মৎস্য ভবন মোড় থেকে প্রেসক্লাবের দিকে যান চলাচল প্রায় ২০ মিনিট বন্ধ থাকে। তবে অন্তত ২৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে বাম জোটের নেতাদের ভাষ্য।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক সিপিবি নেতা ক্বাফী রতন সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের হামলায় জোটের নেতা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকীসহ ২৫ থেকে ২৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তারা সবাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশের হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ডেকেছে গণতান্ত্রিক বাম জোট।
ডিএমপি রমনা জোনের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা তাদের (বাম জোটের নেতাদের) অনুরোধ করেছিলাম যেন ব্যারিকেড না ভাঙে। কিন্তু তাদের নেতা-কর্মীরা কথা শোনেননি। তারা প্ল্যাকার্ডের সঙ্গে থাকা লাঠি ও বাঁশ দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে।
পরে আমাদের পাঁচ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত হয়েছেন দুজন। আমরা অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছি। পরে আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি। রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা চার-পাঁচ জনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছি। ভিডিও ফুটেজ দেখে আমরা ব্যবস্থা নেব।
মিছিল থেকে যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সহকারী সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আনোয়ার সজ্জন ও ছাত্র ইউনিয়ন নেতা জুবায়ের আহম্মেদ সজল, ক্ষেতমজুর সমিতির কর্মী ওয়াহিদুজ্জামান ও বাসদের কর্মী তামিমকে পুলিশ আটক করেছে ক্বাফী রতন জানান।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে ২৫৮ আসনে অভাবনীয় জয় পেয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে ফল প্রত্যাখ্যান করে বাম জোট। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও ওই নির্বাচনে ভোট ডাকাতির অভিযোগ তোলে। নির্বাচনের বছরপূর্তির দিনটি ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়ে সোমবার জেলায় জেলায় কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি করা হয় বাম জোটের পক্ষ থেকে।

