লাগামহীন পেঁয়াজের দাম: ব্যবসায়ীদের প্রতি ক্ষুব্দ রাষ্ট্রপতি

লাগামহীন পেঁয়াজের দাম: ব্যবসায়ীদের প্রতি ক্ষুব্দ রাষ্ট্রপতি

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০৬ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ২২ঃ২০

ভরা মৌসুমে পেঁয়াজের দাম আবারও ২০০ টাকা কেজিতে পৌঁছায় ব্যবসায়ীদের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ব্যবসায়ীরা যা ইচ্ছা তাই করছে। ক’দিন আগে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। মাঝে কমেছে, আবার বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা কী… এটা আমি বুঝি না। যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছে। এটা তো হতে পারে না।

সোমবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) পঞ্চম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। পেঁয়াজের দাম বাড়ায় গত নভেম্বর মাসে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি।

শিক্ষার্থীদের এই অবস্থা উত্তরণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে সোমবার রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, এখানেও মনে হয় তোমাদের ভূমিকা থাকতে পারে। ছাত্ররা ইচ্ছা করলে কি না পারে। ছাত্ররা যদি মনে করে, বাংলাদেশে ডিসিপ্লিন আসবে তাহলে মনে হয় পারবে।

যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা বন্ধে ছাত্রদের প্রচার চালানোর আহ্বানও জানান রাষ্ট্রপতি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্যান্টমেন্টের ভেতরের যে পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা। এর বাইরে যে কী একটা অবস্থা সেটা বলার দরকার নেই। একই দেশ, একই ঢাকা শহর। ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে যদি এত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে পারে…একটা গাড়ি ঢুকলে সিগন্যাল ক্রস করে কেউ যায় না। বেল্ট ঠিকমত বাঁধে। অযথা হর্ন বাজায় না। বাইরে গেলেই তখন দেখা যায়, কোনো নিয়মকানুন নেই। মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, তোমরা যখন বোতলে পানি খাও, সেটা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে ফেলো না। এর বাইরে গেলেই ছুঁড়ে ফেলছ। বিদেশে গেলে স্টেশনে থুথু ফেলার সাহস পায় না। টিস্যু পেপারে থুথু ফেলে পকেটে রাখে। পরে ডাস্টবিনে ফেলে। আর আমাদের এখানে কোথায় ওয়ালে পড়ল, না কারও শরীরে পড়ল…এই অবস্থা। এই নেচার পরিবর্তন করতে হবে। রাস্তাঘাট এমন অপরিষ্কার থাকে, মারাত্মক অবস্থা। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই এই অবস্থা।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, সারা বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার ছাত্র- যারা আছে তারা যদি একটা ক্যাম্পেইন কর, মানুষকে বলো, যেখানে সেখানে আবর্জনা ফেলা যাবে না। এটা করতে পারলে আমার মনে হয় বাংলাদেশ একটা ডিসিপ্লিনে আনতে পারব। না হলে বাংলাদেশ একটা ডাস্টবিন মনে করে চলছি।

কর্মভিত্তিক শিক্ষার প্রতি জোর দিয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য আবদুল হামিদ বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকার জন্য নিজেদের আরও যোগ্য করে তৈরির গুরুত্ব দিনদিন বেড়েই চলেছে। তাই জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল ক্ষত্রে বিশ্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতা মোকাবিলায় আমাদের শিক্ষার্থীদের পেশাভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। শ্রমবাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা কার্যক্রম প্রণয়ন করতে হবে। এ যুগে চাহিদা ও কর্মভিত্তিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

সমাবর্তনে ৩৪ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা জীবনে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বিইউপির উপাচার্য মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী সমাবর্তনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও তিনবাহিনীর প্রধানগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading