চাষী নজরুল ইসলামের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ১১ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১২:২০
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের আজ ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৫ সালের আজকের এই দিনে লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুর এতবছর পরও কেউ তাকে এতটুকু ভোলেনি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য কিংবদন্তি এই নির্মাতা অমর থাকবেন আজীবন। তিনি ছিলেন বাবা-মায়ের জ্যেষ্ঠপুত্র। বাবা মোসলেহ উদ্দিন আহম্মদ, ভারতের বিহারে টাটা আয়রন এন্ড স্টীল কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। চাষীর মামা চাষী ইমাম উদ্দিন শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হকের সঙ্গে রাজনীতি করতেন এবং নবযুগ ও লাঙ্গল পত্রিকার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জানা যায়, শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক চাষীর নাম রেখেছিলেন। ১৯৫৭ সালের দিকে মুসলেহ উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। টাটার চাকরি ছেড়ে দিয়ে সপরিবারে স্বদেশে চলে এলেন। কিছুদিন পর তিনি মারা যান। পিতার শোক ভুলে যাবার আগেই সংসারে বড় ছেলে হিসেবে সব দায়িত্ব তাঁর কাঁধে এসে পড়ে। এজি অফিসে অফিসের পোস্ট-সর্টার হিসেবে ১৯৬৯ পর্যন্ত চাকরি করেছেন। এফডিসি মাত্র তখন গড়ে উঠছে। আউয়াল সাহেব বিখ্যাত সিনেমা করিয়ে ফতেহ্ লোহানীর প্রধান সহকারী।
চাষী চাকরির ফাঁকে ফাঁকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, একই সঙ্গে শুরু করেন নাটক। কৃষ্টি সংঘের সাথে মঞ্চে অভিনয় করেন চাষী। কাজ করতে করতে চলে আসে ১৯৭১। আর সবার মতো তিনিও যোগ দিলেন মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণে। তারপর যুদ্ধশেষে বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’ নির্মাণ করলেন। ১৯৭২-এ এই ছবির মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে চাষী নজরুলের আত্ম প্রকাশ ঘটে। এছাড়া নিয়মিত বেতারে, টিভিতে সান্ধ্যকালীন অভিনয় করতেন তিনি।
তার পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হচ্ছে- ওরা ১১ জন (১৯৭২), সংগ্রাম (১৯৭৪), ভালো মানুষ (১৯৭৫), বাজিমাত (১৯৭৮), দেবদাস (১৯৮২), চন্দ্রনাথ (১৯৮৪), শুভদা (১৯৮৬), মিয়া ভাই (১৯৮৭), বেহুলা লক্ষিন্দর (১৯৮৭), বাসনা (১৯৮৯), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৯১), হাঙর নদী গ্রেনেড (১৯৯৭), হাছন রাজা (২০০১), মেঘের পরে মেঘ (২০০৪), শাস্তি (২০০৪), দুই পুরুষ (২০১১), দেবদাস (২০১৩)।চাষী নজরুল ইসলাম একুশে পদক, একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাংলাদেশ সিনে জার্নালিষ্ট এ্যসোসিয়েশন এওয়ার্ড, শের-ই-বাংলা স্মৃতি পুরস্কার, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইয়ুথ অর্গানাইজেশন ফেডারেশন এওয়ার্ড, সিনে ডিরেক্টরাল সোস্যাল ওয়েলফেয়ার, বাংলাদেশ সোস্যাল ওয়েলফেয়ার, স্যার জগদীশচন্দ্র বসু স্বর্ণপদক, জহির রায়হাণ স্বর্ণপদক, বিনোদন বিচিত্রা অ্যাওয়ার্ড, জেনেসিস নজরুল সন্মামনা পদক, তারকালোক অ্যাওয়ার্ড, সিজেএফবি অ্যাওয়ার্ড, ট্রাব অ্যাওয়ার্ড এবং আন্তর্জাতিক কালাকার পুরস্কারসহ প্রচুর পুরস্কার-সম্মাননা পেয়েছেন।

