দর্শকদের মন ছুয়েছে কাতান শাড়ি
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ১১ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১২:৩২
তানজিলা সুমি : বর্তমান সময় অনলাইনের যুগ। তাই যে কেউ চাইলেই যে কোন জিনিস, যে কোন সময় দেখতে পারেন। এই ধরুণ নাটক বা সিনেমা। তথ্যপ্রযুক্তির যুগ হওয়ায় এখন তেমন কেউ ই আর টিভির সামনে ঘণ্টার পর ঘন্টা বসে থাকে না নাটক দেখার জন্য। ইউটিউবের কল্যাণে নিজের পছন্দের জিনিসটি দেখে নিতে পারেন খুব সহজেই।

কিছুদিন ধরেই ফেসবুক ওয়ালে ঘুরছিল মম আর জোভানের কিছু ছবি। ছবিগুলো দেখে আগ্রহ জন্মালো। খবর নিয়ে জানলাম, ছবগিুলো ‘কাতান শাড়ি’ শিরোনামের একটি নাটকের স্থিরচিত্র। নাটকটি প্রচার হবে আরটিভিতে। ভেবেছিলাম দেখব। কিন্তু সময় করে উঠেতে পারিনি। নাটকটি নিদির্ষ্ট সময়ে প্রচার হলো। এরপর জানতে পারলাম নাটকটি দর্শকদের মন ছুঁয়ে গেছে। তাই আমিও আর লোভ সামলাতে পারলাম না । কারণ বর্তমান সময়ে নাটকের কোন অভাব নেই। ইউটিউব খুললেই দেখা যায় ভুড়ি ভুড়ি নাটক। প্রেমিক-প্রেমিকা খুনসুটিতে ভরা। অভাব শুধু ভালো নাটকের। ভালো গল্পের। যেই চিন্তা সেই কাজ। বসে গেলাম নাটক দেখতে। প্রায় ৪৯ মিনিটের নাটকটি একসঙ্গে দেখে উঠালাম। দেখে মনে হলো সময়টি নষ্ট হয়নি। বরং যথার্থ উপয়োগ করেছি। এটাই তো আমাদের জীবন। এটাই তো নিম্ম মধ্যবিত্তদের জীবন কাহিনী। যেখানে অনেক সখ চাপা পরে যায় নিয়তির কাছে।

নাটকটিতে অনেক গুলো ম্যাসেজ ছিল দর্শকদের জন্য। একটি হলো সততা। গরীব হলেও শরীফের স্ত্রী তাকে সৎ থাকার পরামর্শ দেন। আবেগের কাছে দায়িত্ববোধ বিসর্জন দিতে বারণ করে | যা আজকাল খুব একটা দেখা যায় না। সেই সেঙ্গ গল্পে ফুটে উঠেছে মার প্রতি শরীফের অন্যরকম এক ভালোবাসা । নাটকটি দর্শকদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিল যে, মায়েরও অনেককিছু ইচ্ছে করে। তার স্থান বৃদ্ধাশ্রমে নয়, পরিবারের সঙ্গে। এখানেই চিত্রনাট্যকার শফিকুর রহমান শান্তুনুর সার্থকতা। সেই সঙ্গে শান্তুনুর গল্প সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য একটি ধন্যবাদ পেতে পারেন নির্মাতা সরদার রোকনও । সবাই বলেন থাকেন, নির্মাতা রোকনের বেশিরভাগ নাটকে মমকে দেখা যায়। তবে একঘেয়ামি দূর করে মমকে নতুন রূপে উপস্থাপন করেছেন তিনি। যা প্রশংসার দাবিদার। তবে শরীফ চরিত্রে জোভান আরও ভালো করতে পারতো। কেন জানি মনে হলো, জোভানের চোখে মুখে সেই গরীব শরীফকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে সবদিক বিবেচনা করে বলা যেতেই পারে, নাটকটি সত্যিই দর্শকদের মন ছুয়েছে। অনন্ত আমার ছুঁয়েছে।
সব শেষে একটি কথাই বল, নির্মাতা রোকানের কাছ থেকে চাওয়া আরও বেড়ে গেল। এমন সুন্দর সুন্দর আরও নাটক দেখতে চাই। বাংলা নাটকের প্রতি রইল ভালোবাসা অবিরাম…

