বাণিজ্য মেলায় অফারের ছড়াছড়ি
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ১১ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৯ঃ৫৫
বিক্রি বাড়াতে বাণিজ্য মেলায় চলছে অফারের ছড়াছড়ি। মূল্য ছাড়, বিদেশ ভ্রমণ এবং পণ্য ক্রয়ে নিশ্চিত উপহারসহ দেওয়া হচ্ছে নানা রকমের অফার। শনিবার (১১জানুয়ারি) বাণিজ্য মেলায় গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে। আগের দিন শুক্রবার মেলা বন্ধ ও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি পেভিলিয়নে অগ্নিকান্ডের পর বাণিজ্য মেলা বন্ধ রাখা হয়েছিল। এই দুদিন পর শনিবার ফের মেলার কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে। সরকারি বন্ধের দিন হওয়ায় এদিন মেলায় দর্শক-ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
অফার: মেলায় ঢুকতেই চোখে পড়বে ‘মেট্রো শপিং বিডি’ নামের একটি স্টল। তার ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘কাড়াকাড়ি অফার, এক সেট ৩৫০ টাকা, তিন সেট ৯৯৯ টাকা’। স্টলটিতে নারীদের থ্রি পিসসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হচ্ছে।
কারুপণ্য শতরঞ্জি প্যাভিলিয়নে গেলেই দেখা মিলবে প্রতিটি পণ্যে অফার। এখানে কার্পেটে ৫০ শতাংশ ছাড়, ফ্লোর কার্পেটে ৩০ শতাংশ ছাড়, বাহারি পণ্যে ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। প্যাভিলিয়নের বিক্রয়কর্মী নেহাল বলেন, ‘মেলায় আমাদের সব পণ্যে অফার চলছে। ফলে বিক্রয়ও ভালো হচ্ছে।’
মেলায় মূল গেইট দিয়ে প্রবেশ করেই ডানপাশে রয়েছে হাতিল ফার্নিচারের প্যাভিলিয়ন। সেখানে প্রতিটি ফার্নিচারে ৫-১০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ক্রেতারা পাচ্ছেন ১২ মাসের ই্এমআই সুবিধা। প্যাভিলিয়নে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী রাহুলের সঙ্গে। তিনি জানান, নতুন সংসার সাজাচ্ছেন। তাই স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন মেলায়। হাতিলের শো-রুমে সংসার গোছানোর নানা ফার্নিচার রয়েছে। আর মেলায় অফার তো আছেই।
হাতিল প্যাভিলিয়নের পেছনেই শার্প প্যাভিলিয়ন। যেখানে ফ্রিজ কিনলেই মডেল ভেদে নিশ্চিত ৫-২৪ হাজার টাকা ছাড় রয়েছে। এছাড়া টিভি, ওভেন ও অন্যান্য পণ্য কিনলে দেয়া হচ্ছে মডেল ভেদে ছাড়। ওয়ালটন প্যাভিলিয়ন থেকে ফ্রিজ কিনলে নিশ্চিত ১০ শতাংশ ছাড়। আর ওয়াশিং মেশিন কিনলে পাতায়া, মালয়েশিয়া ও নেপালে কাপল ট্যুর রয়েছে। প্যাভিলিয়নের সিনিয়র সেলস এক্সিকিউটিভ রহমান বলেন, ‘আমাদের ফ্রিজ ও ওয়াশিং মেশিনে অফার চলছে। মেলার প্রথম দিন থেকেই আমাদের পণ্যে ক্রেতাদের চাহিদা বেশি।’
এদিকে মেলায় জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের (জেডিপিসি) প্যাভিলিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, ক্রেতাদের সমাগম। ক্রেতারা তাদের পছন্দের ব্যাগ, জুতা, মানিব্যাগ ও ঘরের বিভিন্ন কার্পেট কিনছেন। সেখানের বিক্রয়কর্মী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মেলায় আমাদের বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা রয়েছে। নারীদের ব্যাগ, ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র, মানিব্যাগ এবং জুতা বেশি বিক্রি হচ্ছে। পাট পণ্য পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না।’
এদিকে, ছুটির দিনে বাণিজ্য মেলা সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। গত ১ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করতে পারবে। মেলায় প্রবেশে টিকিটের মূল্য প্রাপ্ত বয়স্ক ৪০ টাকা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ২০ টাকা। মেলায় স্টল ও প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ৪৮৩টি। যার মধ্যে প্যাভিলিয়ন ১১২টি, মিনি প্যাভিলিয়ন ১২৮টি ও বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল ২৪৩টি। বিদেশি প্যাভিলিয়ন ২৭টি, বিদেশিমিনি প্যাভিলিয়ন ১১টি এবং বিদেশি প্রিমিয়ার স্টলের সংখ্যা ১৭টি।
এবার মেলায় বাংলাদেশসহ অংশ নিয়েছে ২১টি দেশ। এর মধ্যে আছে- ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, ভুটান, নেপাল, চীন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, মালয়েশিয়া, ইরান, তুরস্ক, মরিশাস, ভিয়েতনাম, রাশিয়া, আমেরিকা, ব্রিটেন, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়া।

