সংসদে ক্রসফায়ার উৎসাহিত করায় টিআইবির ‘উদ্বেগ’
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ১৫ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ২২ঃ১০
সংসদে ধর্ষককে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যা করার জন্য সরকারি ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের দাবির বিষয়ে উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ দাবি সংবিধান স্বীকৃত আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট আইন প্রণেতাদের সব বক্তব্য সংসদের কার্য বিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) টিআইবির পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) শেখ মনজুর-ই-আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়। একই দিন বাংলাদেশ আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষ থেকেও একই ধরনের বিবৃতি দেয়া হয়।
টিআইবির বিবৃতিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, সম্প্রতি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়া ধর্ষণ প্রতিরোধে জাতীয় সংসদে গতকাল (১৪ জানুয়ারি) এক আলোচনায় সম্মানিত সংসদ সদস্যদের একাংশের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশের অংশ হিসেবে অপরাধটি দমনে ক্রসফায়ারে হত্যার দাবি তুলে ধরা হয়, যা গভীরভাবে নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। একই আলোচনায় অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে এই পন্থার ‘কার্যকারিতা’ তুলে ধরে তারা তা এক্ষেত্রেও প্রয়োগের জোর দাবি জানান, যা একদিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত উত্থাপিত বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগের যথার্থতা প্রমাণ করে। অপরদিকে বেআইনি এ পদ্ধতির পক্ষে আইনপ্রণেতাদের নিন্দনীয় উৎসাহ ও ঢালাও সমর্থন তুলে ধরে- যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অশনি সংকেত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনসভায় এ ধরনের বেআইনি ও অযাচিত দাবিকে সংবিধানস্বীকৃত ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পথে অপ্রতিরোধ্য অন্তরায়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দানের প্রয়াস ছাড়া আর কিছুই ভাবা যায় না।
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে মন্তব্যগুলো আবেগতাড়িত। তবে আইনপ্রণেতা হয়ে তারা কেমন করে ভুলে গেলেন আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার সুরক্ষার প্রাধান্যের কথা? এটি অতিশয় বেদনাদায়ক, যা সকলকে হতবাক করেছে। এই অবস্থান আইন-শৃঙ্খলা সংস্থাগুলোর পেশাদারিত্বকে অবক্ষয়ের মুখে ঠেলে দিবে। বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের মধ্যে আস্থাহীনতা বাড়াবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভ্যন্তরে আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা বাড়াবে। ট্রিগার-হ্যাপি (হত্যাই অপরাধ দমনের একমাত্র উপায়) সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাবে।
একই ঘটনায় পৃথক বিবৃতি দিয়ে এদিন উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে আইন ও শালিস কেন্দ্র (আসক)।

