শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ১৯ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১০:৫৯
দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতে বিশ্বব্যাপী শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনার মধ্য দিয়ে রোববার (১৯ জানুয়ারি) শেষ হয়েছে তাবলিগ জামাতের ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমা। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এই আখেরি মোনাজাতে আত্মশুদ্ধি ও গুনাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সব বালা মুসিবত থেকে হেফাজত ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়।
দ্বিতীয় বৃহত্তম এই মুলিম সমাবেশে ইন্ডিয়ার দিল্লির নিজামউদ্দিন মারকাজের শূরা সদস্য মাওলানা জামশেদ বেলা ১১টা ৫০মিনিট থেকে ১২টা ৭মিনিট পর্যন্ত মোট ১৭ মিনিট মোনাজাত পরিচালনা করেন। মাওলানা জামশেদ সমগ্র বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর গুনা মাফ করার জন্য আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানান।
দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে এদিন সকাল থেকে ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার মুসল্লি বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের দিকে ছুটে আসেন। ইজতেমা ময়দানের আশপাশ এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ ও আব্দুল্লাহপুর- আশুলিয়া সড়কে মুসল্লিদের ঢল লক্ষ্য করা গেছে।
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে মাওলানা সাদ কান্ধলভির অনুসারীরা অংশগ্রহণ করেছেন। বিশ্বের অনেক দেশ থেকেই তাবলির অনুসারিরা আসেন ইজতেমায়।
ইজতেমার আখেরি মোনাজাতের মুসল্লিদের সুবিধার্থে ১৬টি বিশেষ ট্রেন চলাচল করে। এছাড়া সব আন্তঃনগর ট্রেন টঙ্গীতে যাত্রা বিরতি করে রোববার। বিআরটিসি’র শতাধিক বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছিল। মোনাজাত উপলক্ষে এদিন টঙ্গী ও আশপাশ এলাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পাঁচ স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি অতিরিক্ত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখা হয় বলে জানিয়েছে জেলা ও মহানগর পুলিশ।
এ বছর বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হয় ১০ জানুয়ারি। ১২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে মাওলানা জুবায়ের অনুসারিদের প্রথম পর্ব শেষ হয়। প্রথম পর্বে ৬৪টি জেলার মুসল্লিরা অংশ নেন। দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমাতেও দিল্লির মাওলানা সা’দ অনুসারী ৬৪ জেলার মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।
বিশ্ব ইজতেমায় এসে শনিবার দিবাগত রাতে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এবারের দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় অংশ নিতে এসে ১০ জন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে।

