মহাকাশে রোবটকন্যা পাঠাবে ইসরো
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ২৫ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৩:১০
২০২২ সালের মধ্যে মহাকাশ অভিযানে চার মানব-নভোচারীর সঙ্গে একটি রোবটকন্যা পাঠাবে ইন্ডিয়ান মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)। ইন্ডিয়ান ইঞ্জিনিয়ারদের তৈরি রোবটকন্যাটির নাম ‘ব্যোম মিত্র’।
ইসরো সূত্রের খবর, ‘ব্যোমমিত্র’ মহাকাশযানে ছোটখাটো পরীক্ষা করবে এবং পৃথিবীতে ইসরোর কমান্ড সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কাজ করবে। এই যন্ত্রমানবী অবশ্য অনড়। তার পা তৈরি করা হয়নি। চেয়ারে বসে সামনে বা পাশে ঝুঁকে যাবতীয় কাজ করবে সে। কৃত্রিম মেধায় সে যাবতীয় কাজ করবে, সঙ্গীদের চিনতে পারবে, সাহায্য করবে কথোপকথনে।
মহাকাশে রোবট পাঠানো অবশ্য নতুন নয়। চাঁদে বা মঙ্গলের মাটিতে যে সব ‘রোভার’ বা গাড়ি পাঠানো হয়, সেগুলিও এক-একটি রোবট। মানুষের চেহারার রোবটও এই প্রথম যাচ্ছে না। নাসার রোবট-নভশ্চর বা রোবোনট ২০১৫ সালে প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে। গত বছর রাশিয়াও যন্ত্র-নভোচারীরকে মহাকাশে পাঠিয়েছে। এদের কাজ, মূলত নভোচারীদের সাহায্য করা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত মেরামতি। এর বাইরে কখনও মাকড়সা, কখনও গাড়ির আকারে একাধিক রোবট পাঠিয়েছে নাসা। ২০১৩ সালে কিউরিয়োসিটি নামে মঙ্গলগ্রহে পাঠানো গাড়িটিও রোবট ছিল। চন্দ্রযান-২ অভিযানে ইন্ডিয়ার বিক্রম-ও ছিল রোবট। কারণ, বছরের পর বছর কোনও মানুষ তো মহাকাশে থাকতে পারে না! সে ক্ষেত্রে রোবট অনেক বেশি কার্যকর। ইন্ডিয়ার যন্ত্রমানবী অবশ্য সঙ্গী নভোচারীদের সঙ্গেই ফিরবে পৃথিবীতে।
নাসা বা রাশিয়ার যন্ত্রমানবদের নির্দিষ্ট লিঙ্গ নেই। ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রে তা হলে যন্ত্রমানবী তৈরি করা হল কেন? বিদেশে মহিলা নভশ্চরেরা যখন বহু আগে থেকেই মহাকাশে পাড়ি দিচ্ছেন, তখন ইসরোর অভিযানের জন্য বাছাই হওয়া নভোচারীরা সবাই পুরুষ। সেই খামতি ঢাকতেই কি যন্ত্রমানবী পাঠানো হল? ইসরো সূত্রের খবর, ইন্ডিয়ান মেয়েরাও যে মহাকাশ অভিযান বা গবেষণায় পিছিয়ে নেই, তা বোঝাতে যন্ত্রমানবী তৈরি করা হয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার

