সংবাদমাধ্যমকে অর্থ না দিলে অস্ট্রেলিয়ায় কর দিতে হবে গুগল, মেটাকে

সংবাদমাধ্যমকে অর্থ না দিলে অস্ট্রেলিয়ায় কর দিতে হবে গুগল, মেটাকে

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ০৮:৪০

অস্ট্রেলিয়া সরকার বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর নতুন নিয়ম আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে এসব কোম্পানির অর্থ পরিশোধ করতে হবে—তা না হলে তাদের নতুন করের মুখে পড়তে হবে।

গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এই বিষয়ে প্রকাশিত খসড়া আইনে বলা হয়েছে—গুগল, মেটা ও টিকটক-এর মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলোকে স্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলোর কনটেন্ট ব্যবহারের জন্য অর্থ দিতে হবে। প্রস্তাবিত এই আইনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সংবাদের দর-কষাকষি প্রণোদনা’ বা ‘নিউজ বার্গেনিং ইনসেনটিভ’।

আইন অনুযায়ী, যদি এসব কোম্পানি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আর্থিক চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের অস্ট্রেলিয়ায় অর্জিত আয়ের ওপর ২.২৫ শতাংশ পর্যন্ত কর আরোপ করা হবে। তবে যদি পর্যাপ্ত বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন হয়, তাহলে করের হার কমে ১.৫ শতাংশে নামতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘মানুষ এখন ক্রমেই ফেসবুক, টিকটক ও গুগলের মতো প্ল্যাটফর্ম থেকেই সরাসরি খবর পাচ্ছে। তাই আমরা মনে করি, এসব বড় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উচিত সাংবাদিকতার পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য দেওয়া, যা তাদের আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্ল্যাটফর্মগুলো যদি সংবাদ সংস্থাগুলোর সঙ্গে চুক্তি না করে, তাহলে তাদের আরও বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হবে।’

আইনটি অনুমোদিত হলে আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে। এই উদ্যোগ থেকে প্রাপ্ত অর্থ অস্ট্রেলিয়ার সংবাদ শিল্পকে সহায়তা করতে ব্যবহার করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, করের হার কমলেও এই খাত থেকে বছরে ২০০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার রাজস্ব আসতে পারে।

তবে এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর সমর্থকেরা এর আগে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই ধরনের উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, এসব নীতির মাধ্যমে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে অন্যায়ভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।

এদিকে, মেটার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এই প্রস্তাবকে ‘ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সংবাদ সংস্থাগুলো নিজেরাই আমাদের প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট প্রকাশ করে। কারণ তারা এখান থেকে লাভবান হয়। আমরা তাদের কনটেন্ট নিই না, তবুও এই কর দিতে হবে!’

এদিকে বিষয়টি নিয়ে গুগল ও টিকটকের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশটি নিজস্ব স্বার্থেই সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা একটি সার্বভৌম দেশ। আমাদের সরকার অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেবে।’

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading