করোনায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে ‘উৎসর্গ’
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ২৪ মার্চ ২০২০ । আপডেট ১৭:৪৫
সারা বিশ্বে এখন করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) এক মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও করোনার আক্রমণ হয়েছে। এরই মধ্যে দেশে কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন সরকারি হিসাবে ৩৯ জন, যাদের মধ্যে মারা গেছেন ৪ জন। এছাড়াও করোনার উপসর্গ নিয়ে অন্তত ৪ জন মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যাদের করোনা পরীক্ষা করার আগেই মৃত্যু হয়।
করোনাভাইরাস থেকে জীবন রক্ষায় সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ও হ্যান্ডস্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পক্ষে যেখানে নিয়মিত খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে হিমশিত খেতে হয়, সেখানে তাদের পক্ষে সাবান কেনা বা হ্যান্ডস্যানিটাইজার ব্যবহার অকল্পনীয় ব্যাপার। তাছাড়া পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে পর্যান্ত পরিমাণ সরবরহ করা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি করোনা নিয়ন্ত্রণে সেবামূলক কাজে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিক এবং করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় যারা জড়িত- সেই চিকিৎসক-নার্সরাও অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার উপকরণ পাচ্ছেন না। সেই সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকরাও রয়েছেন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।
এমন প্রেক্ষাপটে করোনাভাইরাসের বিস্তররোধে সমাজের সুবিধাবঞ্চিতসহ মানবসেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘উৎসর্গ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’। করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিক ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যসরা ক্লান্তিহীন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন আমাদের জন্য। এই মানবিক মানুষগুলোর সুরক্ষার জন্য উৎসর্গ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য প্রস্তুত করছে ৫০০০ হ্যান্ডস্যানিটাইজার।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস বলেন, এই সংকটময় মুহূর্তে মানুষের মাঝে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা আমাদের অবস্থান থেকে চেষ্টা করছি সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষ ও নিম্ন আয়ের মানুষ, পথশিশু, বস্তিবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর। তিনি বলেন, আমরা ঢাকা ও বিভিন্ন জেলাসমূহে কয়েক হাজার মানুষকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। উৎসর্গ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সংগঠনটি দেশের ৫৫ জেলায় প্রায় ৩৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক স্বেচ্ছায় রক্তদান, মাদকবিরোধী সচেতনতা, ছিন্নমূল শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা এবং বাল্যবিবাহরোধসহ বিভিন্নভাবে বিগত চারবছর যাবৎ নিরলসভাবে সেচ্ছাসেবা দিয়ে আসছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধেও সামাজিক সেই দায়িত্ববোধ থেকে সামর্থানুযায়ী মানুষের কল্যাণে এগিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।

