চিকিৎসকসহ করোনায় নতুন আক্রান্ত ৪, দুদিনে মৃত্যু হয়নি
উত্তরদক্ষিণ ২৭ মার্চ ২০২০ । ১২:১৮
দেশে নতুন করে আরও চারজনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে; যাদের মধ্যে দুজন চিকিৎসক। এ নিয়ে দেশে কভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৮ জনে। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। আক্রান্তদের মধ্যে ১১ জন সুস্থ্য হয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাড়ি ফিরেছেন। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট- আইইডিসিআরের সর্বশেষ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) আইইডিসিআর সংবাদ সম্মেলনে জানায়, নতুন আক্রান্ত চারজনের মধ্যে একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে আক্রান্তদের একটি ‘ক্লাস্টার’ থেকে। তবে সেখানে প্রথম সংক্রমণ কোথা থেকে এসেছিল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এদিন এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। নতুন চারজন রোগীর মধ্যে দু’জন চিকিৎসক, যারা করোনভাইরাস আক্রান্ত রোগীদেরে চিকিৎসা দিয়েছিলেন। নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে একজনের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, একজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ এর মধ্যে, একজনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ এবং অপরজন ৫১ থেকে ৬০-এর মধ্যে। এদের মধ্যে দু’জন ঢাকার, আর দু’জন ঢাকার বাইরের।
দু’জনের মধ্যে অন্যান্য রোগের উপসর্গ থাকলেও নতুন শনাক্ত চারজনের কারো মধ্যেই জটিলতা নেই বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর-এর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।
তিনি বলেন, নতুন আক্রান্ত চারজনকে নিয়ে দেশে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৮ জনে। গত ৪৮ ঘণ্টায় নতুন করে কারও মৃত্যুর তথ্য না আসায় মৃতের মোট সংখ্যা আগের মতই পাঁচজনে রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে ১১ জন এরই মধ্যে সুস্থ হয়েছেন। অর্থাৎ এই মুহুর্তে চিকিৎসাধীন কোভিড-১৯ রোগী আছেন ৩৩জন।
গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। এরপর ১৮ মার্চ প্রথম ব্যক্তির মৃত্যুর কথা জানায় আইইডিসিআর। গত বুধবার প্রথমবারের মতো সংস্থাটি জানায় যে, ঢাকায় সীমিত আকারে কম্যুনিটি সংক্রমণ হচ্ছে বলে তারা সন্দেহ করছে। সারাদেশে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অনেকেই কোভিড-১৯ এর উপসর্গ নিয়ে আইইডিসিআরের সাথে যোগাযোগ করেছেন বলে জানান মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি বলেন, চিকিৎসক যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের কেউ কেউ রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, আবার কেউ কেউ কমিউনিটির অংশ হিসেবে সংক্রমিত হয়েছেন। সব চিকিৎসক যে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, তা নয়।
আইইডিসিআরের পরিচালক জানান, করোনাভাইরাস আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকায় তাদের নমুনা সংগ্রহ করে তখনই পরীক্ষা করছেন তারা। এতদিন পর্যন্ত শুধুমাত্র আইইডিসিআরে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হতো। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের আরো তিনটি জায়গায় পরীক্ষা করা শুরু হয়েছে বলে জানান আইইডিসিআরের পরিচালক।
ডা. ফ্লোরা বলেন, চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইনফেকশাস অ্যান্ড ট্রপিকাল ডিজিজ (বিআইটিআইডি), ঢাকার জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও ঢাকা শিশু হাসপাতালে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা আরও জানান, দ্রুত নমুনা সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে এখন থেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর নমুনা হাসপাতালেই সংগ্রহ করা হবে।
একনজরে (২৭ মার্চ পর্যন্ত) বাংলাদেশে করোনাভাইরাস: ২৭ মার্চ নতুন করে শনাক্ত হয়েছে চারজন, মোট করোনাভাইরাস শনাক্ত ৪৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টয় ১০৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। ২১ জানুয়ারি থেকে সর্বমোট পরীক্ষার সংখ্যা ১০২৬। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১১ জন। মৃত্যু ৫ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৩ জন।
আইইডিসিআরের যোগাযোগের জন্য ০১৯৪৪৩৩৩২২২ অথবা ১০৬৫৫ নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এখান থেকে হান্টিং নম্বরের মাধ্যমে অন্যান্য নম্বরে টেলিফোনটি চলে যাবে। এছাড়া ১৬২৬৩ নম্বরেও যোগাযোগ করা যাবে।


One thought on “চিকিৎসকসহ করোনায় নতুন আক্রান্ত ৪, দুদিনে মৃত্যু হয়নি”