ব্রিটিশদের বাংলাদেশ ছাড়ার নির্দেশনা
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন। ২৭ মার্চ ২০২০ । ১৬:০০
করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে নিজ দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশ ছাড়তে বলেছে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে হাইকমিশনের ফেসবুক পাতায় এক বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের উদ্দেশে বলছি: ঢাকা থেকে লন্ডন ও ম্যানচেস্টারের বিমান ফ্লাইট এখনো সচল আছে। আমরা আপনাকে ব্রিটেনে ফিরে যাওয়ার উপদেশ দিচ্ছি।
এদিকে বাংলাদেশে থাকা নাগরিকদের বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। দেশে ফিরতে ইচ্ছুক আমেরিকানদের তথ্য চেয়ে বৃহস্পতিবার দূতাবাসের ওয়েবসাইটে এক বার্তায় বলা হয়, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ফিরতে ইচ্ছুক মার্কিন নাগরিক ও পরিবারের সদস্যদের জন্য একটি ফ্লাইটের ব্যবস্থার করতে কাজ করছে দূতাবাস। তবে এখন পর্যন্ত সেই ফ্লাইটের দিনক্ষণ ঠিক হয়নি বলে ওই বার্তায় জানানো হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকা বিদেশি নাগরিকদের অনেকে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। যাদের মধ্যে ঢাকায় বিদেশি মিশনে কর্মরত জনবল এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। ওইদিন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তৌহিদ উল আহসান জানান, বুধবার মধ্যরাতে মালয়েশিয়া থেকে আসা একটি বিমানে ২২৫ জন মালয়েশিয়ান নাগরিক নিজ দেশে ফিরে গেছেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার সকালে ভূটানের ব্যবস্থাপনায় সেদেশের ১৩৯ জন নাগরিক ফিরে যান।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে থাকা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে এ বিষয়ে বৈঠক করেন। মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের সাথে এবং বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা। ওই বৈঠকে বলা হয়, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে গত কয়েক সপ্তাহে অধিকাংশ বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিজেদের দেশে ফিরতে অসুবিধায় পড়ছেন বিদেশি নাগরিকরা। এসব নাগরিকেরা নিজ দেশে ফিরে যেতে চাইলে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরণের সহায়তা করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খলিলুর রহমান জানান, কোনো দেশ তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে চাইলে বাংলাদেশ পূর্ণ সহায়তা করবে। তিনি বলেন, তারা যদি নিজেদের নাগরিকদের জন্য বিশেষ প্লেনের ব্যবস্থা করতে চায়, তার অনুমতি দেবো আমরা। আবার তারা বাংলাদেশ বিমানের কোনো প্লেন চার্টার করতে চাইলে তাও করতে পারেন।
আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কিছু দেশের নাগরিকরা নিজেদের দেশে ফিরে যেতে চেয়েছেন বলে জানান খলিলুর রহমান। তবে তাদের সংখ্যা কত, সে সম্পর্কে নির্দিষ্টভাবে বলতে পারেননি তিনি। ইউরোপে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ১৪ মার্চ ব্রিটেন বাদে ইউরোপের যেকোনো দেশ থেকে আসা ফ্লাইট অবতরণ বন্ধ করার সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাংলাদেশ সরকার। এরপর ২১ মার্চ মধ্যরাত থেকে বিদেশ থেকে ফ্লাইট আসার ব্যাপারে আরো কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে শুধুমাত্র লন্ডন ও ম্যানচেস্টারে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যে শুক্রবার পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪৮ জন ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। এদিশে শেষ খবর হচ্ছে, আমেরিকায় আক্রান্তের সংখ্যা বিশ্বের সব দেশবে ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে প্রায় ৮৬ হাজার মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, মারা গেছে প্রায় ১৩০০ মানুষ। অপরদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ১১ হাজার মানুষ, মৃত্যু হয়েছে ৫৮০ জনের।

