এবার বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান বন্ধ
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন। ৩১ মার্চ ২০২০ । ১৩:০০
দেশে প্রতিবছর ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হয়। নববর্ষের অনুষ্ঠানে হাজার-হাজার বাঙালি দেশজুড়ে নানা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এভাবেই বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়ে থাকে। এবার দেশ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এর ফলে ৪৯ বছরের ইতিহাসে দেশে প্রথমবারের মতো ২৬ মার্চের স্বাধীনতা দিবসের সকল অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়। দেশের করোনা প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। এর মধ্যে আসছে বাঙালির আরেক প্রাণের মিলনমেলা বাংলা নববর্ষ উদযাপন। অনেকের মনেই ভাবনা ছিল কী হবে এবার নববর্ষে? সেই প্রশ্নের সমাধান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসকদের সাথে এক ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনার শুরুতে তিনি নববর্ষের সব আয়োজন বন্ধ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য সংক্রমণ মোকাবিলায় দেশে চলমান সরকারি ছুটি আরো বাড়ানো হতে পারে বলেও এসময় ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারপ্রধান বলেন, নববর্ষের অনুষ্ঠান আমি মনে করি ডিজিটাল পদ্ধতিতে করতে পারি। বিশাল জনসমাগম করে এই অনুষ্ঠান সারা বাংলাদেশে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। এটা আমার বিশেষ অনুরোধ,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, নববর্ষের অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে বলাটা কষ্টের বিষয়। কষ্ট বেশি লাগছে আমার। এটা ঠিক যে নববর্ষের অনুষ্ঠান আমরাই শুরু করেছিলাম অনেক বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে। কিন্তু আজকে সেটাও আমাকে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এই কারণে যে মানুষের কল্যাণের দিকে তাকিয়েই। কিন্তু এটা আমরা বন্ধ রাখছি। কাজেই নববর্ষের অনুষ্ঠান আপনারা করবেন না। এটা আপনারা বন্ধ রাখবেন।

করোনার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, কেউ যদি মনে করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবার লক্ষণ দেখা দিয়েছে, তাহলে সাথে সাথে পরীক্ষার ব্যবস্থা করবেন। কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে সেটি গোপন না করারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, লুকাতে যেয়ে নিজের সর্বনাশ করবেন না। পরিবারের সর্বনাশ করবেন না।
এছাড়া কাউকে খাদ্য সাহায্য দিতে গিয়ে জনসমাগম না করার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। তিনি দাবি করেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে এবং পরিস্থিতি এখনো পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।

