বিশ্ব বাজারে তেলের দাম তলানিতে ঠেকতে পারে

বিশ্ব বাজারে তেলের দাম তলানিতে ঠেকতে পারে

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন। ০২ এপ্রিল ২০২০ । ১৪:২০

বিশ্বের তেলের চাহিদা এখন তলানিতে। কারণ রাস্তাঘাট সব ফাঁকা, উড়োজাহাজগুলো বসা, কারখানাগুলো অন্ধকার। উল্টো দিকে তেলের সরবরাহ বাড়ছেই। সৌদি আরব ও রাশিয়ার মধ্যে তেলের দাম নিয়ে দ্বন্দ্বের পর থেকে উৎপাদনে তেজিভাব রয়েছে। আমেরিকাও আগ বাড়িয়ে তেলের উৎপাদন বন্ধ করতে চায় না। এমতাবস্থায় তেলের সরবরাহে এমন উপচে পড়া পরিস্থিতি হতে পারে যে, পড়ে থাকা কোটি কোটি ব্যারেল তেল গুদামজাত করে জায়গা শিগগিরই ফুরিয়ে আসতে পারে। দাম নেমে যেতে পারে নিম্ন পর্যায়ে।

এরই মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীতে বিশ্বজুড়ে অচলাবস্থার মধ্যে চাহিদা অভূতপূর্বভাবে কমে অপরিশোধিত তেলের দাম ১৮ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নিওবার্জার বারমেনের জ্যেষ্ঠ জ্বালানি বিশ্লেষক জেফ উইল বলেন, বাজার যে সিগন্যাল দিচ্ছে তাতে শুধু তেলের চাহিদাই কমবে না তেল কোথাও রাখার জায়গাও না থাকতে পারে। অর্থাৎ গুদাম, শোধনাগার, টার্মিনাল, জাহাজ, পাইপলাইন- ঘটনাচক্রে সবগুলোরই ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যে পরিস্থিতি ১৯৯৮ সালের পর দেখা যায়নি বলে গোল্ডম্যান স্যাকস জানিয়েছে।

সিএনএন বলছে, অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ ব্র্যান্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ও ব্রেন্ট ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২০ ডলারে বিক্রি হলেও কোথাও কোথাও দরপতন হয়ে দাম একক সংখ্যায় নেমেছে। জেবিসি এনার্জির বিশ্লেষকরা মঙ্গলবার একটি প্রতিবেদনে লিখেছেন, সরবরাহের বিপরীতে চাহিদা এত দ্রুত কমছে যে খুব শিগগিরই পরিচালন মুনাফা অর্জন নয়, অপরিশোধিত তেল রাখার জায়গার সংস্থান করা উৎপাদকদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

গুদামজাত করার অন্যতম বিকল্প হচ্ছে- উদ্বৃত্ত সমস্ত অপরিশোধিত তেল জাহাজে তোলা। জেবিসির হিসাবে, এক্ষেত্রে তেল বহনকারী বিশ্বের বড় বড় জাহাজগুলোর শতকরা ২০ শতাংশ ভাসমান গুদাম হিসেবে কাজ করতে পারে। কিন্তু তাতেও সমস্ত উদ্বৃত্ত তেলের জায়গা হবে না। জেবিসি বলছে, এপ্রিলে দৈনিক প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল ‘বাস্তুহীন’ তেল আক্ষরিক অর্থেই কোথাও রাখার জায়গা হবে না। যেখানে এই উৎপাদন মে মাসে ৭০ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তেলের উদ্বৃত্ত সরবরাহ এমন চিত্র তৈরি করেছে যে কিছু কিছু নিম্নমানের তেলের দাম শূন্যের নিচে পৌঁছেছে। যেমন ওয়াইয়োমিং অপরিশোধিত মানের তেলের দর মাইনাস ১৯ সেন্টে ঠেকেছে বলে গত সপ্তাহে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে। গুদামজাত করার ক্ষমতা কমে যাওয়ার অর্থ হলো এমন একটি সময় আসতে পারে যখন তেলের চাপ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য উৎপাদকদেরকে পয়সা খরচ করতে হতে পারে। তথ্য সহায়তা বিডিনিউজ।

Md Enamul

Leave a Reply