দেশে করোনায় নতুন আক্রান্ত ১৮, মৃত্যু বেড়ে ৯
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ০৫ এপ্রিল ২০২০। ১৪:১০
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ জন, যা এখন পর্যন্ত একদিনে আক্রান্ত হওয়া সংখ্যার হিসেবে সবচেয়ে বেশি। এর আগে একদিনে সবচেয়ে বেশি ৯ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর শনিবার দিয়েছিল সরকারের আইইডিসিআর। রবিবার (৫ এপ্রিল) সংস্থাটির সঙ্গে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হয়ে সেই সংখ্যা দ্বিগুণ বৃদ্ধির খবর দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। একইসঙ্গে নতুন করে একজন করোনায় মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মৃত্যু বেড়ে ৯ জনে পৌঁছালো।
রবিবার (৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানায়, দেশে নতুন করে ১৮ জন করোনা বা কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হওয়ায় বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৮৮ জন। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে আরও ৩ জন সুস্থ হওয়ায় মোট ৩৩ জন সুস্থ হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা । তিনি বলেন, করোনায় মারা যাওয়া আরেকজন হচ্ছেন পুরুষ। তার বয়স ৫৫ বছর। তিনি নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ছিলেন।
ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, নতুন আক্রান্ত ১৮ জনের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ আর তিন জন নারী। এদের মধ্যে ১১-২০ বছরের কোঠায় একজন, ৩১-৪০ এর কোঠায় দু’জন, ৪১-৫০ এর কোঠায় চার জন, ৫১-৬০ এর কোঠায় ৯ জন এবং ষটোর্ধ্ব ৯ জন। এর মধ্যে ১২ জন ঢাকার, নারায়ণগঞ্জের ৫ জন এবং মাদারীপুরের ৫ জন। ডা. সেব্রিনা আরও বলেন, সারাদেশে এখন ১৪টি কেন্দ্রে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে মোট ৩৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষা। এর মধ্যে ১৮ জনকে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন শনাক্ত হয়েছে আইইডিসিআর’র এর পরীক্ষায়। বাকি ৫ জন্য অন্যান্য হাসপাতালের পরীক্ষায় ধরা পড়েছে।
৩৩ জনের পরীক্ষা করোনাভাইরাসের জীবাণু না পাওয়া যাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, আক্রান্ত ৪৬ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ৩২ জনকে হাসাপাতালে রেখে আর ১৪ জন বাড়িতে থেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের অবস্থা ভালো হওয়ায় বাড়িতে রেখে আইইডিসিআর’র তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে। নতুন আক্রান্তদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৮ জনের বেশির ভাগ বিভিন্ন ক্লাস্টারের অংশ। ঢাকার বাসাবো এলাকায় ৯ জন রোগী পাওয়া গেছে। এছাড়া টোলারবাগ ৬ এবং পুরো মিরপুরে আরও ৫ জন সবমিলিয়ে মোট ১১ জন রোগী রয়েছে। সীমিত আকারে কমিনিউ ট্রান্সমিশন হচ্ছে। জনসমাগম এড়িয়ে না চলেলে এটা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।
এর আগে গত শনিবার সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা বিভাগ (আইইডিসিআর) জানায়, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭০ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৮ জন। গত কয়েকদিন ধরে পরীক্ষা সংখ্যা বাড়ানোর পর থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
গত ৮ মার্চ বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার কথা জানায় আইইডিসিআর। এখন পর্যন্ত ২৮ দিনে নিশ্চিত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৮৮ জন। অপরদিকে, গত মাসের ১৮ তারিখে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে প্রথম ব্যক্তির মৃত্যু হয়। সেই সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৯ জনে পৌঁছেছে। এরপর ২৫ মার্চ প্রথমবারের মত রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা বিভাগ জানায় যে, বাংলাদেশে সীমিত আকারে কম্যুনিটি ট্রান্সমিশন বা সামাজিকভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হচ্ছে। তবে রবিবারের তথ্যে সেটি ট্রান্সমিশন বৃদ্ধির প্রমাণ মিলছে।
এখন আইইডিসিআর বলছে, অন্তত তিনটি ক্লাস্টারে এই কম্যুনিটি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এগুলো হচ্ছে- মাদারীপুরের শিবচর, ঢাকার বাসাবো, টোলারবাগ এবং বৃহত্তর মিরপুর এলাকা। এসব এলাকায় আগে থেকে বিদ্যমান লকডাউন বা বিধিনিষেধ আরো জোরদার করা হয়েছে।

