দেশে একদিনেই আক্রান্ত ১১২

দেশে একদিনেই আক্রান্ত ১১২

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ০৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪.২০

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণে গত এক মাসের রেকর্ড ভেঙে একদিনেই ১১২ জন নতুন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত সংখ্যা এক লাফে বেড়ে ৩৩০ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরেকজন কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআরের অনলাইনে যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। গত একদিনে নতুন করে কারও সুস্থ হওয়ার খবর আসেনি। এক্ষেত্রে গত ৭ এপ্রিলের সংখ্যাই ঠিক থাকছে। অর্থাৎ এ পর্যন্ত ৩৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা এবং আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাও উপস্থিত ছিলেন ব্রিফিংয়ে।

আগে এই অনলাইন ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ থাকলেও এখন তা বন্ধ করে দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একে বলছে ‘স্বাস্থ্য বুলেটিন’। গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) থেকে এ সংবাদ সম্মেলনের নামকরণ করা হয় সংবাদ বুলেটিন। এতে সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্ন নেওয়া হবে না বলে সেদিন জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

বৃহস্পতিবারের সংবাদ বুলেটিনে অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যাদের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, তাদের বেশিরভাগ ঢাকা শহরের। ঢাকা শহরে শনাক্ত হয়েছেন ৬২ জন। এরপর ১৩ জন রয়েছেন নারায়গঞ্জের। আমরা ইতোমধ্যেই নারায়ণগঞ্জকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছি। সেখানে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘যদিও বিভিন্ন জায়গায় রোগী পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় রোগী শনাক্ত হচ্ছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, আগে যে ক্লাস্টারগুলো চিহ্নিত করা হয়েছিল যেমন— নারায়ণগঞ্জ, অনেক জেলাতেই যখন রোগী চিহ্নিত করেছি, তখন জানা গেছে যে, তারা নারায়ণগঞ্জ থেকে গেছেন।’

ডা. ফ্লোরা বলেন, ‘তাই আমাদের ঘরে থাকাটা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা এখান থেকে বোঝা যায়।’ তিনি বলেন, ‘গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু তাকে ছুটি হিসেবে নিলে হবে না। এটা সরকার থেকে দেওয়া হয়েছে কেবলমাত্র ঘরে থাকার জন্য। ঘরে থাকাটাই সবচেয়ে বড়, ঘরে থাকতেই হবে।’

আইইডিসিআরের পরিচালক আরও বলেন, ‘এ পর্যন্ত যত রোগী আমরা পেয়েছি, তাদের বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে— তাদের সংক্রমণ হওয়ার প্রথম জায়গাটা জনসমাগম। তাই যেকোনও ধরনের জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে।’

বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা বলেন, ‘ঘরে থাকতে হবে। আর এজন্য এখন সংক্রমণ ব্যাধি আইন প্রয়োগ করতেও আমরা দ্বিধা বোধ করছি না।’ তিনি জানান, নতুন শনাক্ত হওয়া ১১২ জনের মধ্যে পুরুষ ৭০ জন পুরুষ, আর ৪২ জন নারী। তিনি বলেন, ‘নিয়মিতভাবেই দেখা যাচ্ছিল কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে পুরুষ দুই তৃতীয়াংশের মতো। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া রোগীর মধ্যেও তাই দেখতে পাচ্ছি। বয়সের হিসেবে ১০ বছরের নিচে রয়েছে তিন জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে নয় জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ২৫ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২৩ জন এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে রয়েছেন ১১ জন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading