বৃষ্টিতে ভিজলো রাজধানী, ভোগান্তিতে জনজীবন

বৃষ্টিতে ভিজলো রাজধানী, ভোগান্তিতে জনজীবন

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১১:২০

সাতসকালে বৃষ্টিতে ভিজলো রাজধানী ঢাকা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েন কর্মজীবী মানুষ। বৃষ্টির মধ্যে ছাতা মাথায় নিয়ে কিংবা ভিজতে ভিজতেই কর্মস্থলের উদ্দেশে বের হতে দেখা যায় অনেককে। কেউ রিকশা, কেউ বাস, আবার কেউ হেঁটে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন অনেকেই।

সকালের ব্যস্ত সময়ে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় সড়কে বের হওয়া মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। অফিসগামী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে দোকানের ছাউনি, ভবনের প্রবেশপথ কিংবা বাসস্টপে আশ্রয় নিতে দেখা যায়। যারা জরুরি প্রয়োজনে কিংবা কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য রাস্তায় ছিলেন, তাদের অনেকেই বৃষ্টিতে ভিজে যান। বৃষ্টির পানি জমে কোথাও কোথাও হাঁটাচলা ও যানবাহন চলাচলেও সমস্যা তৈরি হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বৃষ্টির সময় যানবাহনের গতি কমে যায়। গণপরিবহনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বৃষ্টির মধ্যে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। আবার কিছু সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ায় ধীরগতির সৃষ্টি হয়। এতে একদিকে বৃষ্টিতে ভেজার ঝুঁকি, অন্যদিকে যানজটে আটকে থাকার দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে।

পথচারীরা বলছেন, সকালের ব্যস্ত সময়ে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তাদের চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে। কর্মস্থল ও প্রয়োজনীয় কাজে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হওয়ার পর বৃষ্টির মুখে পড়েন অনেকে। এতে কেউ বৃষ্টিতে ভিজে গন্তব্যে পৌঁছান, আবার কেউ বৃষ্টি কমার অপেক্ষায় রাস্তার পাশে আশ্রয় নেন। বৃষ্টির কারণে সড়কে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় অনেকের গন্তব্যে পৌঁছাতেও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগে। বিশেষ করে গণপরিবহনের যাত্রী ও পথচারীদের দুর্ভোগ বেশি হয়েছে বলে জানান তারা।

মিরপুর থেকে কারওয়ান বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন রাকিব। তিনি বলেন, সকালে মিরপুর থেকে কারওয়ান বাজারের উদ্দেশে বের হয়েছিলাম। বাসে করে আসার পথে বৃষ্টি শুরু হয়। পরে বৃষ্টির কারণে রাস্তায় যানবাহনের গতি কমে যায়। সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছানো নিয়ে চিন্তায় পড়তে হয়েছে। বৃষ্টির পানি থেকে বাঁচতে চেষ্টা করেও পুরোপুরি রক্ষা পাওয়া যায়নি।

মিরপুর থেকে মতিঝিলের দিকে যাচ্ছিলেন মুস্তাফিজ। তিনি বলেন, সকাল ৮টার দিকে মিরপুর থেকে মতিঝিলের উদ্দেশে বের হই। রাস্তায় আসার পর হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। বাসস্ট্যান্ডে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম। বৃষ্টি না কমায় শেষ পর্যন্ত ভিজেই গাড়িতে উঠতে হয়েছে। সকালের ব্যস্ত সময়ে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় যাতায়াতে বেশ সমস্যা হয়েছে।

মিরপুর থেকে আগারগাঁওয়ের দিকে যাচ্ছিলেন সাইমুম। তিনি বলেন, মিরপুর থেকে আগারগাঁওয়ে একটি কাজে যাচ্ছিলাম। বের হওয়ার সময় বৃষ্টি ছিল না। পথে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় সমস্যায় পড়তে হয়েছে। রাস্তায় পানি জমে থাকায় হেঁটে চলাচলও কষ্টকর হয়ে যায়। বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় লেগেছে গন্তব্যে পৌঁছাতে।

আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে। এ সময় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলেও পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

এদিকে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সঙ্গে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading