সাগরে ভাসমান রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে ব্রিটেনকে প্রস্তাব বাংলাদেশের
উত্তরদক্ষিণ ২৮ এপ্রিল ২০২০ । ১৫:৪৫
সাগরে ভাসমান ৫ শতাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ও কমনওয়েলথ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লর্ড আহমেদ টেলিফোনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তা প্রত্যাখ্যান করে উল্টো ব্রিটেনকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঠানো থেকে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয় সমুদ্রে নৌকায় ভাসমান রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিতে ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ও কমনওয়েলথ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লর্ড আহমেদের ফোনে অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘মানবিক কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে অনুরোধ করা হলেও এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশকে বলা হয় না। এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের ওপরও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার দায়িত্ব বর্তায়। মিয়ানমারে এখনও মিলিটারি অপারেশন চলছে এবং রোহিঙ্গারা মারা যাচ্ছে। কিছুদিন আগেও তারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। তারপরও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ মিয়ানমারে বিনিয়োগ করছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এ বিষয়ে সোচ্চার নয়।’

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সব দেশের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। সীমিত সম্পদ থাকার পরও মানবিকতার পরিচয় দিয়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। ৫০০ রোহিঙ্গা সে তুলনায় অতি সামান্য। তারা এখন বাংলাদেশ সীমানায় নেই। মানবিক কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে অনুরোধ করা হলেও এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশকে আশ্রয় দিতে বলা হয়নি।’ যুক্তরাজ্যের রয়েল জাহাজ এসেও তাদের উদ্ধার করে আশ্রয় দিতে পারে বলে ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রীকে বলেন ড. মোমেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের উচিত বাংলাদেশে অবস্থানরত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে তাদের দেশে নিয়ে গিয়ে আশ্রয় দেওয়া। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের, বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোর উচিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে এগিয়ে আসা।’
বাংলাদেশের বহুলোক মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে চাকরি হারিয়ে খাবারের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার জন্য ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রীকে আহ্বান জানান ড. মোমেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ব্রিটেনসহ উন্নত বিশ্বের উচিত মানবিক কারণে তাদের চাকরিতে বহাল রাখার বিষয়ে সোচ্চার হওয়া।’ ব্রিটেনের ক্রেতারা যাতে পোশাক খাতে বাংলাদেশে ক্রয়াদেশ বাতিল না করেন সে বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটেনের সহযোগিতা কামনা করেন।
বাংলাদেশ ব্রিটেনকে করোনা প্রতিরোধে উপহার হিসেবে চিকিৎসা সামগ্রী পাঠাবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন লর্ড আহমেদকে এ সময় অবহিত করেন। এর জবাবে ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী ড. মোমেনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

