থেরাপির জন্য ‘প্লাজমা’ সংগ্রহ শুরু, প্রয়োগ আগামী সপ্তাহে
উত্তরদক্ষিণ শনিবার ১৬ মে ২০২০। ১৭:২০
কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় পরীক্ষামূলকভাবে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগের জন্য সেরে ওঠা রোগীদের কাছ থেকে সিরাম সংগ্রহ শুরু করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল। শনিবার (১৬ মে) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রক্তপরিসঞ্চালন বিভাগে কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠা দুজন চিকিৎসক প্লাজমা দান করেন।
হেমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক এবং প্লাজমা থেরাপির জন্য গঠিত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এমএ খান বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে সংগ্রহ করা এই প্লাজমা আগামী সপ্তাহে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের শরীরের প্রয়োগ করা যাবে। অধ্যাপক ডা. এমএ খান জানান, এ সপ্তাহে তারা আরও প্লাজমা সংগ্রহ করবেন। সংগ্রহ করা প্লাজমায় অ্যান্টিবডি পরিমাপ করা হবে। এ চিকিৎসা প্রয়োগের অনুমোদনের প্রক্রিয়াও এই সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে।
যারা প্লাজমা থেরাপি দেবেন তাদের প্রশিক্ষণ, তথ্যসংগ্রহ, প্লাজমা দেওয়ার আগে কিছু পরীক্ষাও করতে হয়। ডা. এমএ খান বলেন, পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে স্পেন থেকে চলে এসেছে। টেস্ট করতে যে পরীক্ষাগুলো করা হয়, সেটা অনেক ব্যয়বহুল। অনেকগুলো স্যাম্পল কালেক্ট করার পর একসঙ্গে এই পরীক্ষা করা হবে। নইলে কিটগুলো নষ্ট হবে। আর পরীক্ষাটা যেহেতু আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী করতে হবে, সেজন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে শুরু করছি।
এই কাজ এগিয়ে নিতে এখন তাদের সামনে দুটো চ্যালেঞ্জ। একটি দাতা সংগ্রহ করা। অন্যটি অর্থের ব্যবস্থা করা। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক খান বলেন, একজনের কাছ থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করতে খরচ হয় ১২ হাজার টাকা। এছাড়া পরীক্ষায়ও আরও কিছু টাকা খরচ হয়। ভবিষ্যতে আমরা যখন এটার পরিসর বাড়াব, তখন পরীক্ষার জন্য আরও কিট লাগবে। সেজন্য ফান্ড দরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আমাদের আশ্বাস দিয়েছে। তবে সরকারি ব্যাপার… কিছুটা সময় দরকার।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথম দিন ১৬ মে, প্লাজমা দিয়েছেন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. দিলদার হোসেন বাদল। গত ২৫ এপ্রিল তার কোভিড-১৯ সংক্রমণ ধরা পড়ে; তিনি সুস্থ্য হন গত ৯ মে। প্লাজমা থেরাপির পরীক্ষামূলক প্রয়োগের কথা শুনে তিনি প্লাজমা দিতে উৎসাহিত হন। শনিবার সকালে প্লাজমা দিয়ে আবার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে কাজে যোগ দিয়েছেন বলে জানান ডা. দিলদার।
একই দিন প্লাজমা দেওয়া দ্বিতীয় চিকিৎসক হলেন- স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের রওনক জামিল পিয়াস। তিনিও সম্প্রতি কোভিড-১৯ থেকে সেরে উঠেছেন। ডা. পিয়াস বলেন, চিকিৎসকরা সচেতন, এ কারণে তারা প্লাজমা দেবেন। কিন্তু সাধারণ মানুষেকেও আগ্রহী করে তুলতে হবে। তথ্য সহায়তা বিডিনিউজ।

