ঢাকায় চীনের করোনা বিশেষজ্ঞ টিম, প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া কথা রাখলেন চীনা প্রেসিডেন্ট
শেখফারুক । উত্তরদক্ষিণ : সোমবার ০৮ জুন ২০২০ । আপডেট ২০:১৪
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেয়া কথা রাখলো চীন। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞ সহায়তা দিতে বিশেষজ্ঞ টিম পাঠানোর ব্যাপারে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আশ্বস্ত করেছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে। বিশেষজ্ঞদের পাঠিয়ে সেই কথা রক্ষা করলেন চীনা প্রেসিডেন্ট।
আজ সোমবার (০৮ জুন) চীন থেকে ১০ সদস্যের মেডিকেল বিশেষজ্ঞ টিম এসেছে ঢাকায়। বাংলাদেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের পর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেও চীনের চিকিৎসক দল বাংলাদেশের চিকিৎসকদের পরামর্শ প্রদান করেছিল। এবার করোনা বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সরাসরি সহযোগিতা করবেন। ঢাকায় তারা থকবেন একটানা ১৮ দিন।
বাংলাদেশে বিশেষজ্ঞ সহায়তা দিতে আসা চীনের ১০ সদস্যের করোনা-বিশেষজ্ঞ টিম সকালে ঢাকায় পৌছিয়েছেন । এ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন চীনের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিচালক ও চিফ ফিজিশিয়াল লি ইউন গিন। বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে বিশেষ প্রতিনিধি দলটি এসেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এই বিশেষজ্ঞ দলে চীনের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিচালক ছাড়াও ইনফেকশাস কন্ট্রোল, এনডোক্রাইনোলজির সদস্য ছাড়াও আইসিইউয়ের হেড নার্স রয়েছেন।

এর আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল পাঠানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং আশ্বাস দিয়েছিলেন।
চীনা চিকিৎসক দলকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এফ এম বোরহান উদ্দীন।
চীনা দলকে স্বাগত জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন থেকে আসা চিকিৎসক দলের কারণে দেশের চিকিৎসক ও রোগীরা উৎসাহ পাবেন এবং উপকৃত হবেন।
ড. মোমেন বলেন, ‘চীনের এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল আমাদের চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা পরিদর্শন করবেন। প্রয়োজনবোধে তারা এ দেশের করোনা চিকিৎসার বিষয়ে সুপারিশ করবেন। এতে আমাদের রোগীরা সাহস পাবেন।’
তিনি বলেন, চীন করোনা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে। করোনা রোগী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশও চীনকে অনুসরণ করছে। এমনকি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টিও চীন প্রথম আবিষ্কার করে।
বিশ্বের মহামারীতে রূপ নেওয়া কোভিড-১৯’র উৎসভূমি চীনের উহান। কয়েক মাসের বহু চেষ্টার পর চীন রোগটি সামাল দিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ১৪০ কোটি মানুষের দেশ চীনে এই রোগ সংক্রমণ নিয়ে এখনও বিশ্বব্যাপি উদ্বেগ উতকন্ঠা বিরাজ করছে।
সোমবার (০৮ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত সরকারী হিসাব মতে করোনা (কোভিড-১৯) ভাইরাসে বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে (কমপক্ষে) ৯৩০ জন এবং ৬৮ হাজার ৫০৪ জনে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে, চীন থেকে ১০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল আগামী ২২ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করবেন। এই ১৪ দিনে তারা ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া সামরিক ও বেসামরিক হাসপাতালগুলো, কোয়ারেন্টিন সেন্টার ও ল্যাবরেটরিগুলো পরিদর্শন করবেন।
বাংলাদেশের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এই সংক্রান্ত সব বিষয় নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন চীনের বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা।
এ সফরে তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি, জাতীয় কারিগরি কমিটি, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও মত বিনিময় করবেন।
এছাড়া অনলাইন সভার মাধ্যমে দেশে নানা হাসপাতাল ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন তারা।
তিনি বলেন, পৃথিবীর সব দেশকে সম্মিলিতভাবে করোনা মহামারি মোকাবিলায় কাজ করতে হবে। করোনা বৈশ্বিক ইস্যু এবং এটা কোনও একক দেশের পক্ষে ম্যানেজ করা সম্ভব নয়। করোনা পরবর্তী অথনৈতিক সমস্যা মোকবিলায়ও বিভিন্ন দেশের পারস্পারিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।
ড. একে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের করোনা মোকাবিলায় সহযোগিতার পাশাপাশি রোহিঙ্গা বিষয়েও বিশেষ আগ্রহ নিয়ে কাজ করছে।
রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানেও চীনের সহায়তা আমাদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এখন করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে নানাভাবে সহযোগিতা দিচ্ছে চীন।

