নতুন টেস্টে মোহম্মাদ নাসিমের করোনা ‘নেগেটিভ’, তবে অবস্থার উন্নতি হয়নি
শেখফারুক । উত্তরদক্ষিণ : মঙ্গলবার ০৯ জুন ২০২০ । আপডেট ১৯:৩২
জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মোহম্মাদ নাসিম। গত ০১ জুন থেকে হাসপাতালে চিকিতসাধীন তিনি। সর্বশেষ অবস্থা চিকিতসকদের মেডিকেল ভাষায় ‘ক্রিটিক্যাল’। বর্তঅমানে ‘লাইফ-সাপোর্টে’ আছেন। এরমধ্যে একটা ভালো খবর মিলল আজ মঙ্গলবার (০৯ জুন), তার নতুন করোনা টেস্টের ফল ‘নেগেটিভ’। তবে তার শারীরিক অবস্থার তেমন কোন উন্নতি হয়নি। আগের মত ‘সংকটজনক’ পর্যায়ে রয়েছে।
তবুও এই ভালো খবরটি (করোনা নেগেটিভ) কিছুটা আশার আলো জাগিয়ে রাখলো।
তার চিকিৎসায় গঠিত ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া জানালেন, ‘অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন, অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাসিম গত আট দিন পার হয়ে আজ নয় দিন যাবত রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালে থাকা অবস্থায় গত শুক্রবার সকালে তার ‘ব্রেইন স্ট্রোক’ হলে সেখানেই তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। তারপর থেকে তিনি চিকিতসকদের ‘গভীর পর্যবেক্ষণে’ রয়েছেন। ‘দীপ কোমা’ইয় থাকা নাসিমকে নিয়ে তারা কোন নিশ্চয়তা বা আশা দিচ্ছেন না, আবার আশা ছাড়ছেনও না।
অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা নাসিমের শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে গেলে ১৩ সদস্যের এই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। নাসিমকে নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে।
একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি। তিনি আগের মতো এখনও সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন। তার শারীরিক অবস্থার তেমন কোন উন্নতি পরিলক্ষিত হয়নি এবং তাকে নিয়ে আশঙ্কা কেটে যায়নি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া্র নেতৃত্বাধীন ১৩ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে নাসিমের চিকিতসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন।
তিনি রাজধানীর বেসরকারী হাসপাতালে চিকিতসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তিনি গভীর কোমায় রয়েছেন। প্রথমে ৪৮ ঘন্টা পর্যবেক্ষণের বললেও পরে সংশ্লিষ্ট চিকিতসকরা ৭২ ঘন্টার কথা বলেন। এখন ৭২ ঘন্টাও পেরিয়ে গেছে। ‘পর্যবেক্ষণ’ দীর্ঘ হতে পারে বলে জানা গেছে।
একটি সূত্রে জানা যায়, ‘অপেক্ষা’ করা ছাড়া আপাততঃ কিছু করার নেয়।
মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া রবিবার (০৭ জুন) বাসস’কে বলেন, মোহাম্মদ নাসিম সাহেব অচেতন অবস্থায় আছেন। তার জ্ঞান কখন ফেরে সেটি বোঝা যাচ্ছে না। এ অবস্থায়ই আরও অনেক সময় থাকতে পারেন। তিনি কোমায় আছেন। সিটিস্ক্যান করার মতো অবস্থায় তিনি নেই। সিটিস্ক্যান করতে গেলেও ঝুঁকি। অবস্থার উন্নতি হলে সিটিস্ক্যান করা হবে।
ডা. কনক আরও জানান, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পালস গতকাল যে রকম ছিল এখনও সে রকম আছে। এখনও ভেন্টিলেশনে আছেন। শ্বাস-প্রশ্বাস আগে যে রকম ছিল এখনও সে রকমটাই আছে।
মোহম্মাদ নাসিমের ছেলে ও সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় গণমাধ্যমকে জানান, ‘বাবার অবস্থার উন্নতি-অবনতি নেই। অবস্থা আগের মতোই’।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার নাসিমের ছেলে তানভীর শাকিল জয় এবং সংশিল্ট চিকিৎসকের সঙ্গে ফোন করে সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন।
মোহম্মাদ নাসিমের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে তার ছেলে ও সাবেক সাংসদ তানভীর শাকিল জয় সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
জ্বর-কাশিসহ করোনা-ভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে গত ০১ জুন দুপুরে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন মোহম্মাদ নাসিম। সেখানে করোনা টেস্টে ফল ‘পজিটিভ’ আসে। পরে তার শারিরীক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও শুক্রবার (০৫ জুন) সকালে তার হঠাৎ ‘ব্রেইন স্ট্রোক’ হয়।
শুক্রবার (০৫ জুন) সকালে হঠাত মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার অবস্থার অবনতি ঘটে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে (পারিবারিক অনুমতি নিয়ে) চিকিতসকরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তার অপারেশন করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রাজিউল হকের নেতৃত্বে তার মস্তিষ্কে সফল অস্ত্রোপচার করা হয়।
অপারেশন সফল হলেও নাসিমের শারিরীক অবস্থার এখনও তেমন উন্নতি হয়নি।
আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মোহম্মাদ নাসিমকে উন্নততর চিকিতসার জন্য সিএমএইচে স্তানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হলেও তার শারিরীক অবস্থার কারণে সম্ভব হয়নি। তার অবস্থা এতোটাই ‘ক্রিটিক্যাল’ হয়ে পড়ে যে সিএমএইচে নেয়া স্থগিত করে তাতক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালেই তার অপারেশন হয়।
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতার একজন শহীদ এম মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ সরকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রথমে মন্ত্রিসভায় না থাকলেও পরের মেয়াদে তাকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করা হয়।

