বাজেট অধিবেশন : সংসদে মাস্ক পরে স্পীকার ও এমপি
উত্তরদক্ষিণ : বুধবার ১০ জুন ২০২০ । ১৮:৫৩
করোনা ভাইরাস মহামারী জনিত দুর্যোগের মধ্যে আজ বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৫টায় শুরু হল একাদশ সংসদের অষ্টম অধিবেশন। সংসদের এই অধিবেশনের আজকের বৈঠকে স্পীকার সহ উপস্থিত সব সাংসদের মুখে মাস্ক পড়া ছিলো। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে নিজকে রক্ষার জন্য সবাই মাস্ক পড়ে আসেন।
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার বলেন, সকল স্বাস্থবিধি মেনে এই অধিবেশন পরিচালনা করা হবে।
এই অধিবেশনেই বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল।
বিশেষ পরিস্থিতিতে এ অধিবেশনে সংক্রমণ এড়াতে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু ব্যবস্থা।

সংসদ সদস্যদের বসার ব্যবস্থা হয়েছে দূরত্ব বজায় রেখে। মাস্ক ও গ্লাভস পরে তারা অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন।
এরপর তিনি সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন দেন। এ অধিবেশনে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা হলেন- ফারুক খান, এ বি তাজুল ইসলাম, মুহিবুর রহমান মানিক, কাজী ফিরোজ রশীদ এবং মেহের আফরোজ।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কখনও অনুপস্থিত থাকলে তাদের মধ্যে অগ্রবর্তীজন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।
আইনমন্ত্রী এদিন আনিসুল হক ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ-২০২০, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২০ এবং ইনকাম ট্যাক্স (অ্যামেন্ডমেন্ট) অধ্যাদেশ-২০২০ সংসদে উপস্থাপন করবেন।
অধ্যাদেশ জারির পর সংসদের প্রথম বৈঠকে তা উপস্থাপনের বিধান রয়েছে।
এরপর ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান মোল্লা সহ বিশীষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও করোনা-আম্পানের নিহতদের স্মরনেশোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা ও গ্রহণ করা হয়।
করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিশেষ পরিস্থিতিতে এই অধিবেশনে কোরাম পূর্ণ হওয়ার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজন ৬০ জন বা তার সামান্য কয়েকজন বেশি সদস্যকে নিয়ে অধিবেশন চলবে বলে আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

সংসদ কক্ষে আইন প্রণেতাদের আসনের মাঝেও দূরত্ব রাখতে দেখা গেছে। শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং বয়স্ক সংসদ সদস্যদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে বেশ কয়েকটি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে। প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীকে আরো এক সারি পিছনে এবং প্রধানমন্ত্রীর ডান পাশের আসনের সংসদ সদস্য মতিয়া চৌধুরীসহ অন্যদের আরো কয়েক আসন দূরে বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এমনিতে প্রধানমন্ত্রীর ঠিক পাশেই বসেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। বয়স বিবেচনায় এবারের বাজেট অধিবেশনে তিনি যোগ দিচ্ছেন না।
বয়স বিবেচনায় বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদও এবার অধিবেশনে যোগ দেবেন না বলে সংসদ সচিবালয়ে কথা বলে জানা গেছে।
অধিবেশনের জন্য ‘অত্যাবশ্যকীয়’ কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া অন্যদের উপস্থিত না হতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংসদের মূল ভবনে ঢোকার আগে ‘জীবাণুমক্তকরণ চেম্বারের’ ভেতর দিয়ে সব সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ঢুকতে হয়েছে। প্রত্যেকের জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক।
রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী- এসএসএফের সুপারিশ অনুযায়ী সংসদ অধিবেশনে কাজ করবেন এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হয়েছে ইতোমধ্যে। তাতে ৪৩ জনের সংক্রমণ ধরা পড়ে।
দর্শনার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সংসদ ভবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবার। গণমাধ্যমকর্মীদের সংসদে না গিয়ে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে বাজেট অধিবেশনের সংবাদ সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

