কভিড-১৯ রোগী: হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আত্মহত্যা কেন?

কভিড-১৯ রোগী: হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আত্মহত্যা কেন?

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার ২১ জুন ২০২০ । আপডেট ১৮:৩০

সাইয়েদা আক্তার, বিবিসি বাংলা: ঢাকার মুগদা জেনারেল হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়া একজন করোনা আক্রান্ত বা কভিড-১৯ রোগী আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ওই ব্যক্তি যে বাসায় থাকতেন শনিবার (২০ জুন) তার কাছেই একটি গাছ থেকে তার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

এদিকে, ওই ব্যক্তির হাসপাতাল থেকে পালানোর ঘটনায় ২জন চিকিৎসক, ২জন নার্স এবং ৪জন নিরাপত্তারক্ষীকে ‘কারণ দর্শাও’ নোটিশ দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ বলছে, আত্মহত্যা করা ব্যক্তি, আব্দুল মান্নান খন্দকার। তিনি ঢাকার আদাবর এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত সোমবার মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

মুগদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেলিম হোসেন বলেছেন, শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে কোন এক সময় তিনি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। কিন্তু তিনি বাসায় ফেরেননি বা পরিবারের সাথে দেখা করেননি। উনি নিজে করোনা আক্রান্ত ছিলেন। তার স্ত্রী এবং কন্যাও কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত। তার পরিবারের সাথে কথা বলে মনে হয়েছে- এসব নিয়ে তিনি ‘হতাশাগ্রস্ত’ ছিলেন। হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

তবে, হতাশা ছাড়াও পারিবারিক শত্রুতা কিংবা কারো সঙ্গে পেশাগত বিরোধ ছিল কি না—এমন বিষয় পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। সেলিম হোসেন জানিয়েছেন, আদাবর থানায় এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

মৃত আব্দুল মান্নানের স্ত্রী মমতা খাতুন বলেছেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্বামীর সঙ্গে তার শেষবার কথা হয়েছে। তখন তিনি শ্বাসকষ্টের কথা বলেছিলেন। এর পর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

স্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ঠিকমত সেবা পাচ্ছেন না বলে শুক্রবার বিকেলে তার কাছে জানিয়েছিলেন স্বামী আবদুল মান্নান। যদিও শারীরিকভাবে তিনি সুস্থ আছেন বলেও তখন জানান স্ত্রীকে। এমনিতে উনার সাথে আমি আর আমার মেয়েও আক্রান্ত। সেটা নিয়ে তো টেনশনে ছিলেনই। তারপর শুক্রবার উনি বলতেছিলেন হাসপাতালে ঠিকমত চিকিৎসা হচ্ছে না ইত্যাদি। আমরা বলছিলাম বাসায় নিয়ে আসব। কিন্তু উনি বলছিলেন আমার তো ডায়াবেটিস আবার শ্বাসকষ্ট হয়, এখানেই (হাসপাতালে) ভালো।”

তবে, মমতা খাতুন জানিয়েছেন, তার স্বামীর উদ্বেগের আরেকটি কারণ ছিল, পরিবারের তিনজন সদস্য আক্রান্ত হলেও, তাদের তিন বছর বয়সী ছেলেটি আক্রান্ত হয়নি। উনার খুব চিন্তা ছিল ছেলেটাকে নিয়া যে, আমাদের সাথে থেকে যদি ছেলেটারও এখন করোনা হয়! উনি সব আত্মীয়কে বলছিলেন কেউ আমার ছেলেটারে বাঁচাও, তোমাদের কাছে নিয়া যাও। কিন্তু আমার তিন বছর বয়েসী ছেলে কিছুতেই আমাকে (মাকে) ছেড়ে যেতে রাজি হয়নি। উনি খুব দুশ্চিন্তায় ছিলেন এটা নিয়ে।

কিন্তু উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তা থাকলেও তিনি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে বাড়ি না ফিরে কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন, সেটি বুঝতে পারছেন না স্ত্রী মমতা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
মুগদা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবুল হাশেম শেখ হাসপাতালে চিকিৎসা ও সেবা না পাওয়ার অভিযোগ মানতে চাননি। তবে মান্নানের হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে আত্মহত্যার ঘটনার প্রেক্ষাপটে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ডা. মোহাম্মদ আবুল হাশেম শেখ বলেন, মান্নানের হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ওই সময় ডিউটিতে থাকা দুইজন ডাক্তার, দুইজন নার্স এবং সেসময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চারজন আনসার সদস্যকেও ‘কারণ দর্শাও’ নোটিস দেয়া হয়েছে। এর বাইরে যারা রোগীদের মানসিক স্বাস্থ্য দেখেন তাদেরও আমরা ‘শো-কজ’ করেছি।’

তবে ওই ব্যক্তির ‘মানসিক ভারসাম্যহীনতা’ ছিল কি না, সে ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা কিছু বলতে পারেননি বলে জানিয়েছেন মুগদা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading