কুড়িগ্রামে বন্যায় পানিবন্দি ২ লাখ মানুষ

কুড়িগ্রামে বন্যায় পানিবন্দি ২ লাখ মানুষ
কুড়িগ্রামে বন্যায় পানিবন্দি মানুষ । ২৯ জুন ২০২০ । ছবি সংগৃহিত

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার ২৯ জুন ২০২০। আপডেট ২১:৫০

কুড়িগ্রামে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে প্রায় ৩৫০ গ্রামের ২ লাখ পানিবন্দী মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি হু হু করে বাড়তে থাকায় এ দুটি নদীর অববাহিকার ৫০টি চরগ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। সাড়ে তিনশ চর ও নদী সংলগ্ন প্রায় সাড়ে তিনশ গ্রামের দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এছাড়া তিস্তার ভাঙনে উলিপুরের নাগরাকুড়া টি বাঁধের ব্লক পিচিংসহ ৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন দেখা দিয়েছে সারডোব, নুনখাওয়া ও মোঘলবাসা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ ১৫টি স্পটে। পানির চাপে বাঁধ ভেঙে রৌমারী উপজেলা শহর প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর বন্যা কবলিত এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ৬শ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে বলে আরিফুল জানান। তিনি বলেন, প্রবল স্রোতে টিকতে না পেরে অনেকেই রাস্তা, বাঁধ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। তবে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে তাদের ভোগান্তি বাড়ছে; সংঙ্কট দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের। এছাড়া কুড়িগ্রাম-যাত্রাপুর সড়কসহ জেলা সদরের সঙ্গে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চরাঞ্চলের অনেকেই উঁচু ভিটা, নৌকা ও চৌকির উপর আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছে নিকটবর্তী বাঁধ, রাস্তা, আশ্রয়কেন্দ্র ও স্কুলে। তবে প্রবল বর্ষণের কারণে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নেওয়া পরিবারগুলোর দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

এদিকে সোমবার সকালে ধরলার পানি বিপৎসীমার ৭৬ ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া এ দিন দুপুর পর্যন্ত দুধকোমর নদীর পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ প্রকৌশলী জানান। এদিকে পানিবন্দি লোকজনদের অভিযোগ, গত ৫দিন ধরে তারা চরম দুর্ভোগে দিন পার করলেও কোনো ত্রাণ তাদের কাছে পৌঁছেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বেলেন, বন্যা ও ভাঙন কবলিত এলাকায় লোকজনদের সরিয়ে আনতে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া বন্যা ও ভাঙন কবলিত ৯ উপজেলায় ৩০২ মেট্রিকটন চাল ও ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে; দ্রুত সময়ে তাদের মাঝে ত্রান বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান তিনি। সূত্র: বিডিনিউজ।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading