করোনা : বাংলাদেশে আবিষ্কৃত ‘ভ্যাকসিন’ সম্পর্কে যা জানালো গ্লোব বায়োটেক
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ০২ জুুলাই ২০২০। ১৩:৪৫
করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে বাংলাদেশের গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় তেজগাঁও প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড। এর আগে বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছিল গ্লোব বায়োটেক।
ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেকের দাবি, প্রাথমিকভাবে করোনার ভ্যাকসিনে সফল হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এনিমেল পর্যায়ে এটা সফল হয়েছে। এখন এ টিকা মানবদেহেও সফলভাবে কাজ করবে বলেও আশা তাদের।
বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) দুপুর ১২টায় তেজগাঁওস্থ কর্পোরেট অফিসে সংবাদ সম্মেলনে করোনা ভাইরাসের এই ভ্যাকসিন আবিষ্কারের বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেন গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ। তিনি এই ভ্যাকসিন সম্পর্কে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য তুলে ধরেন।

হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ এই ভ্যাকসিনটি সফল হলে আমরা এটা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতি উৎসর্গ করতে চাই।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আমাদের গবেষণা কেন্দ্রে প্রাণীর ওপর প্রাথমিক ট্রায়াল করেছি। আর তেজগাঁওয়ের ল্যাবে বাকি কাজ শুরু হয়েছে।
গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান ডা. আসিফ মাহমুদ জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা করোনার ভ্যাকসিনে সফল হয়েছি। এনিম্যাল পর্যায়ে এটা সফল হয়েছে। এখন আমরা আশা করছি, মানবদেহেও সফলভাবে কাজ করবে আমাদের ভ্যাকসিন।
তিনি প্রজেক্টেরের মাধ্যমে এই ভ্যাকসিন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভ্যাকসিনটি প্রাথমিক এনিমেল ট্রায়ালে এন্টিবডি তৈরি করতে পেরেছে। ভ্যকাসিনের বর্তমান এই অবস্থাকে বড় অগ্রগতি বলেও মনে করছে তারা।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ পর্যায়ে ভ্যাকসিনটি দ্বিতীয় ধাপে এনিমেল মডেলে ট্রায়াল করা হবে। এজন্য ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপরই এটি মানব শরীরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যাওয়া যাবে। ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পর ভ্যাকসিনটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যাওয়ার জন্য কোম্পানিটি সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাইবে। অনুমতি পেলে তারা ট্রায়ালে শুরু করবে।
ডা। আসিফ বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যাব। এরপর আমরা তাদের দেওয়া গাইডলাইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
এর আগে বুধবার (১ জুলাই) বিষয়টি নিয়ে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড-এর দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, এনসিবিআই ভাইরাস ডাটাবেজ অনুযায়ী মঙ্গলবার (৩০ জুন) পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৫ হাজার ৭৪৩টি সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স জমা হয়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে জমা হয়েছে ৭৬টি। উক্ত সিকোয়েন্স বায়োইনফরম্যাটিক্স টুলের মাধ্যমে পরীক্ষা করে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড তাদের টিকার টার্গেট নিশ্চিত করে। যা যৌক্তিকভাবে এই ভৌগোলিক অঞ্চলে অধিকতর কার্যকরী হবে বলে আশা করছেন তারা।

