স্বাস্থ্যঝুঁকি উপেক্ষা করে আফতাবনগরে বসছে পশুর হাট
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২০ । ০৯:৫৫
জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় রাজধানীর আফতাবনগরে কোরবানির পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) সরে এলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সেখানে হাট বসাচ্ছে বলে জানা গেছে।
করোনাভাইরাস মহামারীর প্রকোপের মধ্যে ঢাকার দুই সিটির মধ্যে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় পদক্ষেপের ক্ষেত্রে এমন বিপরীতমুখী অবস্থান এলাকাবাসীকে যেমন বিস্মিত করেছে, তেমনি মহামারীর সংক্রমণের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত এই এলাকায় হাট বসানোর সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
এর আগে গত ১৩ জুন সরকারের করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটি ঢাকার দুই সিটির ৪৫টি এলাকাকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে আফতাবনগর, পাশের বনশ্রী, বাড্ডা, রামপুরাও রয়েছে।
আফতাবনগরের মেরাদিয়া মৌজার অংশটি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীন থাকলেও অধিকাংশ এলাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মধ্যে পড়েছে। দুই সিটি করপোরেশন আলাদা হওয়ার পর থেকে এই এলাকায় উত্তর সিটি করপোরেশনই অস্থায়ী পশুর হাট বসিয়ে আসছে।
এবারও আফতাবনগরের (ইস্টার্ন হাউজিং) ব্লক-ই সেকশন-৩ এর খালি জায়গায় হাট বসানোর কথা থাকলেও স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় সেখান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার জানান ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম।
এক ভিডিও বার্তায় মেয়র বলেন, “জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় রেখে রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোরবানি পশুর হাট বসাবে না ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
তিনি বলেন, “এটি সত্য যে আমাদের শহরে ঘনবসতিপূর্ণ স্থানে যদি পশুর হাট বসে সেটি কিন্তু জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য কিছু কিছু সিদ্ধান্ত আমি পরিবর্তন করতে বলেছি। হাট ইজারা দিয়ে হয়তো কোটি টাকা আয় করা যাবে, কিন্তু টাকার চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি।”
এদিকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবার ১৪টি স্থানে হাট বসানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার তালিকায় আফতাব নগরের (ইস্টার্ন হাউজিং) ব্লক ই, এফ, জি, এইচ এবং সেকশন-১ ও ২ এর খালি জায়গা রয়েছে।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় ঢাকা উত্তর হাট বসানো থেকে সরে আসার পরও কেন সেখানে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন হাট বসাচ্ছে সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা কর্তৃপক্ষের কাছে পাওয়া যায়নি। তথ্য সূত্র – বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

