এন্ড্রু কিশোরের জনপ্রিয় ১০টি গান
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০ । আপডেট ০৯:০৯
ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলে গেলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, ডাক দিয়েছেন দয়াল আমারে, সবাই তো ভালবাসা চায়- এমন অনেক জনপ্রিয় গান নিয়ে গত শতকের ৮০ দশক থেকে শুরু করে টানা এক যুগের বেশি সময় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে গানের জগতে ছিল তার রাজত্ব। কিন্তু বিনোদন জগতের তার সেই রাজত্বে বাধা হয়ে আসে ব্লাড ক্যান্সার। ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে ৯ মাস ধরে ভুগছিলেন তিনি। বিদেশ থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে ছিলেন রাজশাহীতে বোনের বাড়িতে।
সেখানেই সোমবার (০৬ জুলাই) সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
এন্ড্রু কিশোরের জন্ম ১৯৫৫ সালে; ছোট বেলা থেকেই সঙ্গীতে অনুরক্ত ছিলেন তিনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই ছাত্র রাজশাহী বেতারে তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন।
এন্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু হয়েছিল ১৯৭৭ সালে; মেইল ট্রেন চলচ্চিত্রে আলম খানের সুরে ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে। এরপর বাদল রহমানের এমিলের গোয়েন্দা বাহিনীতেও কণ্ঠ দেন তিনি। ১৯৭৯ সালে প্রতিজ্ঞা চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গান গাওয়ার পর আর পেছনে ফিরতে হয়নি তাকে।
তার গাওয়া সবাই তো ভালবাসা চায়, আমার বুকের মধ্যে খানে, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা- এমন অনেক গান এখনও মানুষের মুখে ফেরে। গান গেয়ে আটবার জাতীয় চলচ্চিত পুরস্কার জেতেন তিনি।
৯০ এর দশকের শেষ দিক পর্যন্ত চলচ্চিত্রের গানে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল তার। ওই সময়েও তার গাওয়া পড়ে না চোখের পলক গানটি ছিল তুমুল জনপ্রিয়। বেশ কিছু দিন অসুস্থ থাকার পর এন্ড্রু কিশোরের ক্যান্সার ধরা পড়ে। গত বছর সিঙ্গাপুরে যান চিকিৎসার জন্য। চিকিৎসা শেষে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ১১ জুন তার দেশে ফেরার কথা থাকলেও ১০ জুন এক পরীক্ষায় তার শরীরে আবারও লিম্ফোমার অস্তিত্ব মিলে।
সিঙ্গাপুরে ৯ মাস ধরে চিকিৎসা নিয়ে গত ১১ জুন দেশে ফিরে জন্মস্থান রাজশাহীতে বোন শিখা বিশ্বাসের ক্লিনিকে ভগ্নিপতি ও চিকিৎসক প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে ছিলেন এন্ড্রু কিশোর। প্যাট্রিক বিশ্বাস ক’দিন আগেই গ্লিটজকে জানিয়েছিলেন, এন্ড্রু কিশোরের শারীরিক অবস্থা এখন সংকটাপন্ন। লিম্ফোমা ফিরে আসায় তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে। তার জন্য প্রার্থনা করা ছাড়া আর উপায় নেই। এর পরই এলো তার চির বিদায়ের খবর।
এন্ড্রু কিশোরের জনপ্রিয় ১০টি গান:
১. জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প
১৯৮৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ভেজা চোখ’ চলচ্চিত্রে মনিরুজ্জামান মনিরের কথা ও আলম খানের সুরে এ গানে কণ্ঠ দেন এন্ড্রু কিশোর। শিবলী সাদিক পরিচালিত এ চলচ্চিত্রের মূখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন ও চম্পা।
২. হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস
সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হকের কথা ও আলম খানের সুরে ‘বড় ভালো লোক ছিল’ চলচ্চিত্রের এ গানে কণ্ঠ দিয়ে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে শ্রোতামহলে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর। মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের পরিচালনায় ১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিতে আনোয়ার হোসেন, প্রবীর মিত্র অভিনয় করেছেন।
৩. ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে
মনিরুজ্জামান মনিরের কথায় ও আলম খানের সুরে গানটিকে ‘প্রাণ সজনী’ চলচ্চিত্রের এ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এন্ড্রু কিশোর। ছবিটি পরিচালনা করেন জহিরুল হক।
৪. আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি
প্রয়াত সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কথা ও সুরে ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রের গান এটি। ১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি পরিচালনা করেন বেলাল আহমেদ। অভিনয় করেছেন জাফর ইকবাল, কাজরী।
৫. বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে
এন্ড্রু কিশোরের জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ ছবির গানে তার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন রুনা লায়লা। এ গানে ঠোঁট মিলিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন ও অঞ্জু ঘোষ। তোজাম্মেল হক বকুলের পরিচালনায় ১৯৮৯ সালে ছবিটি মুক্তি পায়।
৬. ভালো আছি ভালো থেকো
কবি রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর কবিতা থেকে গানটির সুর করেছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।
৭. তুমি মোর জীবনের ভাবনা
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কথা ও সুরে ‘আনন্দ অশ্রু’ চলচ্চিত্রের এ গানে কনকচাঁপার সঙ্গে যৌথভাবে কণ্ঠ দিয়েছেন এন্ড্রু কিশোর। ছবিটি ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায়।
৮. সবাই তো ভালোবাসা চায়
গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কথায়, আলম খানের সুরে ১৯৮৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সারেন্ডার’ চলচ্চিত্রের এ গানে সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে যৌথভাবে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। ছবিটি পরিচালনা করেন জহিরুল হক।
৯. ১০. বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কথা ও সুরে ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রে এন্ড্রু কিশোরের গানের ঠোঁট মিলিয়েছেন নায়ক জাফর ইকবাল।

