কুয়েতের নাগরিক হলে পাপুলের এমপি পদ থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০ । আপডেট ১৪:৫০
মানবপাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরের এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল সেই দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে থাকলে তার সংসদ সদস্য (এমপি) পদ বাতিল হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সংসদনেতা বলেন, সে (পাপুল) কুয়েতের নাগরিক কি না- সেটা কিন্তু কুয়েতের সাথে আমরা কথা বলছি, সেটা দেখব। আর যদি এটা হয়, তাহলে তার ওই সিট হয়ত খালি করিয়ে দিতে হবে। কারণ, যেটা আইনে আছে সেটা হবে। তার বিরুদ্ধে আমরা এখানেও তদন্ত করছি।
সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে বুধবার বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ কুয়েতে পাপুলের গ্রেপ্তার হওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তিনি এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান। তার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে (পাপুল) কিন্তু স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। সে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আমাদের (আওয়ামী লীগের) নমিনেশন চেয়েছিল, আমি দিইনি। কিন্তু সে স্বতন্ত্র ইলেকশন করেছে। ওই সিটটি আমরা জাতীয় পার্টিকে দিয়ে দিয়েছিলাম। জাতীয় পার্টির নোমান (মোহাম্মদ নোমান) নমিনেশন পেয়েছিলেন, কিন্তু নির্বাচন করেননি। সেখানে ওই লোক (পাপুল) জিতে আসেন। আবার তার ওয়াইফকেও যেভাবে হোক (সংরক্ষিত আসনের এমপি) বানায়। কাজেই এটা কিন্তু আমাদের করা না।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুলের সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি রয়েছে। পাচারের শিকার পাঁচ বাংলাদেশির অভিযোগের ভিত্তিতে পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ এনেছে কুয়েতি প্রসিকিউশন।
সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শুধু তাই নয়, নিজের স্ত্রী সেলিনা ইসলামকেও সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য করে আনেন তিনি। পাশাপাশি এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যানের পদেও ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার পর ব্যাংকের দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ। প্রবাসী উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকটিতে পাপুলের বড় অঙ্কের শেয়ার রয়েছে।
পাপুল ও তার কোম্পানির ব্যাংক হিসাব ইতোমধ্যে জব্দ করেছে কুয়েত কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশেও তার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।
বিএনপির সাংসদ হারুন তার বক্তব্যে রিজেন্ট হাসপাতালের ‘অনিয়ম ও দুর্নীতি’ এবং করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ৫০ লাখ পরিবারকে সরকারের দেওয়া সহায়তার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আসা তথ্য তুলে ধরেন।
জবাবে সংসদনেতা শেখ হাসিনা বলেন, যে তথ্যগুলো পত্রিকা লিখেছে, প্রত্যেকটা বিষয়… আপনি তিনটা বিষয় উল্লেখ করেছেন। তিনটি বিষয়েই কিন্তু ধরেছে আমাদের সরকারই। বিরোধীদলের সদস্যরা বলেননি, আমরাই ধরেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫০ লাখ পরিবারকে সহায়তার জন্য তালিকা হয়েছে। সেই তালিকা তিন দফা যাচাই করা হচ্ছে। সেটা যাচাই বাছাই করে তারপর কিন্তু আমরা যথাযথ, মানে যে পাওয়ার যোগ্য, সরাসরি তার কাছে আমরা টাকাটা পৌঁছে দিচ্ছি। হয় তার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে, না হয় তার অ্যাকাউন্টে। যাচাই করতে সময়ও নিয়েছি। এখানে অন্য যে নাম-ধাম আসছে- সেগুলো আমরা কেটে ছেটে ফেলে দিচ্ছি।

