নড়াইলে অনলাইনে কোরবানির হাট, পশু বেচা-কেনা শুরু
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০। আপডেট ১৭:৩৫
জেলায় স্বল্প পরিসরে কোরবানির পশু বেচা-কেনা শুরু হয়েছে। হাট-বাজারে পশু বেচা-কেনার পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকালে কোরবানির পশু বেচা-কেনার অনলাইন অ্যাপস এর উদ্বোধন হয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে জনসমাগম এড়াতে অনলাইন অ্যাপসের মাধ্যমে কোরবানির গরু-ছাগল বেচা-কেনায় ক্রেতা-বিক্রেতা আগ্রহী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা।
জেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঈদ-উল-আযহা উদযাপনের লক্ষ্যে নড়াইল জেলায় ২৪ হাজার ৫শ’ পশু চাহিদার বিপরীতে কোরবানির জন্য ২৯ হাজার ৫শ’৩২টি পশু মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে গরু ১৮ হাজার ৮০১টি এবং ছাগল ১০ হাজার ৭৩১টি।
দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোটাতাজাকরণ কর্মসূচির আওতায় খামারিদের কাছে বর্তমানে ২৯ হাজার ৫শ’৩২টি পশু মজুদ রয়েছে, যা দিয়ে জেলার কোরবানির চাহিদা মিটিয়ে ৫ হাজার পশু থাকবে অতিরিক্ত। ছোট বড় মিলে জেলার তিন উপজেলায় পশুর খামার রয়েছে ৪ হাজার ১৪৩টি। এর মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় ১ হাজার ৩৮৩টি পশুর খামার, লোহাগড়া উপজেলায় ২হাজার ২২২টি এবং কালিয়া উপজেলায় ৫৮৩টি পশুর খামার রয়েছে। জেলায় পশুর হাট রয়েছে মোট ৬টি।
নড়াইলের মাইজপাড়া, মাদ্রাসা-নাকশী, পহরডাঙ্গা, লোহাগড়া কোরবানির পশুরহাটের ক্রেতা-বিক্রেতা ও ইজারাদারের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আস্তে আস্তে জমে উঠছে পশু বেচা-কেনা। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ অন্য জেলা থেকে কিছু গরু ব্যবসায়ী এসে স্বল্প পরিসরে গরু কেনা শুরু করেছেন। বাজারে ১১০ থেকে ১২০ কেজি মাংস হবে এমন গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা।
নড়াইল পৌরসভার দূর্গাপুর এলাকার গরু খামারী (কৃষক) মোশারফ হোসেন জানান, কোরবানি উপলক্ষে তার খামারে দেশিজাতের ৯টি বিক্রিযোগ্য গরু ছিল। ইতোমধ্যে তিনি দুটি গরু ১লাখ ৪২হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে এ বছর কোরবানিকে সামনে রেখে ক্রেতার সংখ্যা একটু কম বলে তিনি জানান।
গরুর পাশাপাশি ছাগলও ঊঠেছে হাট-বাজারে। ১৫ থেকে ২০ কেজি মাংস হবে এমন ছাগল ১২ হাজার থেকে ১৬ হাজার পর্যন্ত দাম করতে দেখা গেছে।
জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: মারুফ হাসান জানান, করোনাভাইরাস মহামারির বিষয়টি বিবেচনায় রাখার জন্য পশুর হাটের ইজারাদারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রাণীসম্পদ বিভাগের ভ্যাটেনারি সার্জনের নেতৃত্বে ৬টি টিম আগামী ১৫ জুলাই থেকে হাট-বাজারগুলোতে সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে বলেও জানান তিনি।

