পুঁজিবাজারের জন্য ১৩ ব্যাংক স্বল্প সুদের বিশেষ তহবিল গঠন
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২০ । আপডেট: ২১:৫৫
বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য প্রতিটি ব্যাংককে স্বল্প সুদ হারে ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের যে সুযোগ দিয়েছে তাতে অগ্রগতি হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৩টি ব্যাংক ওই তহবিলের প্রস্তাব তাদের পরিচালনা পর্ষদে পাশ করিয়ে নিয়েছে। কারা কত টাকা বিনিয়োগ করেছে- বিএসইসিতে সে রিপোর্টও পাঠাচ্ছে তারা। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) পুঁজিবাজারে করোনাভাইরাসের প্রভাব ও উত্তরণের উপায় সম্পর্কিত রিসার্জেন্ট সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ এর উদ্যোগে গঠিত রিসার্জেন্ট বাংলাদেশ এই ডায়ালগের আয়োজন করে।
সংলাপে বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, অন্যান্য ব্যাংকগুলোর তহবিল গঠনের বিষয়ে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সহযোগিতা চাওয়া হবে।
বিশেষ তহবিল গঠনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপনের কিছু শর্তের কারণে বিনিয়োগ ব্যাহত হতে পারে জানিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, এসব শর্তের বিষয় পুনঃবিবেচনা করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ব্যাপারে ব্যাংকের পাশাপাশি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তারল্য সুবিধা বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে তারা আলোচনা করবেন। এছাড়াও, তারা আইসিবিকে স্বল্প সুদের তহবিল সুবিধা দেওয়ার জন্যেও অনুরোধ জানাবেন, যাতে তারা পুঁজিবাজারে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারে।
সংলাপ সঞ্চালনা করেন এমসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিএসইর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন-উর-রশিদ।
আলোচনায় অংশ নেন বিল্ড চেয়ারম্যান আবুল কাশেম খান, ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ, পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ, এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ছানাউল হক, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি) এর প্রেসিডেন্ট আজম জে চৌধুরী, ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন, আইসিবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশিদুল ইসলাম প্রমুখ।
সংলাপে বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, তারা পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও অটোমেশনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। অটোমেশন হয়ে গেলে ব্যবসা সহজ হবে, স্টেকহোল্ডারদের সময় ও খরচ বাঁচবে। বাজারে আরও স্বচ্ছতা এবং সুশাসন আসবে। বাজারের পরিধি প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে দুই বছর পর একটি গতিশীল বাজার দেখা যাবে।
তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে বাজারে যেসব কোম্পানির আইপিও এসেছে সেগুলোর অনেকের মৌলভিত্তি ভাল নয়। অনেক কোম্পানি জাল কাগজপত্র বিএসইসিতে জমা দিয়ে আইপিও পাশ করিয়ে নিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা চিহ্নিত করে শাস্তির মুখোমুখী করা হচ্ছে যাতে নতুন করে কেউ এমন কাজের সাহস না দেখায়। তিনি এ ধরনের প্রবণতা বন্ধে নিরীক্ষা প্রতিবেদনের মানের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন। বাসস।

