সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫০তম জন্মদিন আগামীকাল
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২০ । আপডেট ১৭:৪০
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ও বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫০তম জন্মদিন আগামীকাল ২৭ জুলাই (সোমবার)। ১৯৯৭১ সালের ২৭ জুলাই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ধানমন্ডিতে জন্মগ্রহণ করেন।
তার ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে ‘সজীব ওয়াজেদ জয় : সমৃদ্ধ আগামীর প্রতিচ্ছবি’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে রবিবার (২৬ জুলাই)। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। রবিবার সংসদ ভবনস্থ সেতুমন্ত্রীর বাসভবনে ওই গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন করা হয়।
এসময় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও গ্রন্থের প্রকাশক জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব এবং গ্রন্থের সম্পাদক আশরাফুল আলম খোকন ও গ্রন্থের পরিকল্পনাকারী ইয়াসিন কবির জয়।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতার রোল মডেল। তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তির রোল মডেল। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর কন্যার স্বপ্ন বাস্তবায়নে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার নেপথ্য কারিগর হিসেবে কাজ করছেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র, পরিশ্রমী, মেধাবী ও পরিচ্ছন্ন জীবন-জীবিকার অধিকারী কম্পিউটার বিজ্ঞানী সজীব ওয়াজেদ জয়।
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের নেপথ্য নায়ক এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিখাতে নিঃশব্দে ঘটে যাওয়া বিপ্লবের স্থপতি সজীব ওয়াজেদ জয়। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে মেধাবী তারুণ্যের হাত ধরেই বাংলাদেশ সমৃদ্ধির সোনালী সোপানে পৌঁছাবে বলেও এসময় আশাবাদ ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।
জয়ের নাম রাখেন নানা বঙ্গবন্ধু
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই ঢাকায় পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া ও জাতির পিতার জ্যেষ্ঠকন্যা শেখ হাসিনা দম্পতির ঘর আলোকিত করে জন্ম নেন সজীব ওয়াজেদ জয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তার নাম রাখেন নানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
জয়ের শিক্ষা জীবন
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার সময় মা ও বাবার সঙ্গে জার্মানিতে ছিলেন জয়। পরে মায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ইন্ডিয়ায় চলে যান তিনি। তার শৈশব ও কৈশোর কাটে ইন্ডিয়াতে। সেখানকার নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজে লেখাপড়ার পর আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক করেন তিনি। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০২ সালের ২৬ অক্টোবর ক্রিস্টিন ওভারমায়ারকে বিয়ে করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
রাজনৈতিক জীবন
লেখাপড়া করা অবস্থায় রাজনীতির প্রতি অনুরক্ত থাকলেও বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একমাত্র পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় সক্রিয় রাজনীতিতে নাম লেখান ২০১০ সালে। ওই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিতৃভূমি রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ দেওয়া হয় তাকে, যার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে আসেন তিনি।
কর্ম জীবন ও অর্জন
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। মূলত ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার তিনিই।
২০০৭ সালে জয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম কর্তৃক গ্লোবাল লিডার অব দ্য ওয়ার্ল্ড হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার বিষয়টি নিয়ে আসেন। পর্দার অন্তরালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে থেকে গোটা দেশে তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লব ঘটান এই তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে দলীয় ঘরানা ছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি, রাজনীতি, সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন জয়। বিশেষ করে দেশের তরুণদের দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে আত্মনিয়োগ করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কর্মসূচি ও পদক্ষেপ নিচ্ছেন তিনি। ফলে দেশের লাখ লাখ তরুণের আইডোল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়।
ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫০তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন- আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

