বন্যা দীর্ঘ হলে তা মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকুন : প্রধানমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২০ । আপডেট: ০৯:২০
দেশের বন্যা দীর্ঘ হলে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সমন্বয় সভায় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ দেন।
দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গণভবন থেকে জাহাঙ্গীর কবির নানকের মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘এবারের বন্যা সম্ভবত দীর্ঘ হতে পারে। ১৯৯৮ সালের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী ৬৯ দিন ছিল অপর দিকে ১৯৮৮ সালের বন্যা ছিল দুই সপ্তাহ।’ ‘এবারের বন্যা যদি ১৯৯৮ সালের মত দীর্ঘ হয়, তবে, আমাদের কী করণীয় সে ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে।’
এসময় ১৯৯৮ সালে বন্যা মোকাবেলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ওই সময় অনেকেই বলেছিল যে, ২ কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। আমরা ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে কোনো মানুষ না খেয়ে মারা যায়নি। তিনি অতীতে বন্যার সময় দুর্যোগ কবলিত এলাকায় কীভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সে বিষয়েও স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় তিনি নিজ হাতে রুটি বানানোর কথা, খাবার বিতরণের কথা, খাবার পানি, স্যালাইন তৈরিসহ ওষুধ বিতরণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা যথেষ্ট রয়েছে। তারপরও আমাদের সেভাবেই তৈরি থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, যেসব এলাকায় বন্যা, সেসব এলাকার স্থানীয় সংগঠনগুলোকে সক্রিয় করে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিতে হবে। এদিকে আবার করোনাভাইরাস, এটা নিয়েও সতর্ক থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমাদের সকলকে কাজ করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বন্যায় যারা ঘরবাড়ি হারিয়েছে, তাদের ঘরবাড়ি করে দিচ্ছি। বন্যার্তদের আপাতত স্কুল-কলেজে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে সবধরনের সহায়তা করা হচ্ছে। করোনা ভাইরাসে কৃষকদের ধান কাটাও আমরা নেতাকর্মীদের সহায়তায় ভালোভাবে করতে পেরেছি। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে ১৫ আগস্ট যেভাবে করতে চেয়েছিলাম সেভাবে পারলাম না। তাই, আমরা একদিকে বৃক্ষরোপণ করব, আরেকদিকে বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ দেবো। দোয়া-মোনাজাত করা হবে। বন্যাদুর্গত মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছানো, খাবার বিতরণ এবং তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করা- এটাই হবে আমাদের কাজ।
তিনি আরও বলেন, ‘এখন উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকা বন্যা কবলিত। এরপর মধ্য এলাকায় নেমে আসবে। হয়তো জুলাইয়ের শেষে দিকে মধ্য এলাকা এবং আগস্টের শেষ দিক দক্ষিণাঞ্চল বন্যা কবলিত হবে। এটা আমাদের দেশের প্রাকৃতিক নিয়ম। মধ্য উপকলূীয় এলাকায় বন্যা তেমন হয়নি। কিন্তু পদ্মার ওপারের এলাকায় এবার বন্যাটা ব্যাপক হারে দেখা যেতে পারে এবং এই বন্যাটা স্থায়ী হতে পারে। খবর বাসস-এর।

