সৌদির সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদুল আজহা উদযাপিত
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২০ । আপডেট: ১৪:৫৫
অন্যান্য বছরের মতো এবারও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুর, পটুয়াখালী, শেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বেশ কিছু স্থানে ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে। মসজিদে মসজিদে ঈদের জামাত পড়া হয়েছে। জামাত শেষে লোকজন কোরবানিও দিয়েছেন। জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট-
চাঁদপুর
চাঁদপুরের ৪০টি গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে শুক্রবার (৩১ জুলাই) উদযাপিত হচ্ছে ঈদুর আজহা। করোনাভাইরাসের কারণে এবার এসব গ্রামের ঈদগাহে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত না হলেও স্থানীয় মজিদে তারা ঈদ নামাজ আদায় করেন। পরে পশু কোরবানি করেন তারা।
জেলার হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরীফ সংলগ্ন বায়তুল মামুর জামে মসজিদে সকাল পৌনে ৮টায় ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের নামাজে ইমামতি করেন সাদ্রা রহমানিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা কাউছার হামিদ নেছারী। এ সময় শতাধিক মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশ নেন। পরে পশু কোরবানি করেন সামর্থ্যবানরা।
তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাত করার কথা থাকলেও অনেক মসজিদেই যথাযথভাবে মানা হয়নি সামাজিক দূরত্ব। এছাড়া মসজিদে মুসল্লিদের বেশিরভাগের মুখেই ছিল না মাস্ক। করোনাভাইরাসের ভয়কে তোয়াক্কা না করে অনেকে করেছেন কোলাকুলিও।

সাদ্রা দরবারের বর্তমান পীর মো. আরিফ চৌধুরী বলেন, ‘এই দরবারের প্রতিষ্ঠাতা পীর মাওলানা ইসহাক সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে রোজা ও ঈদ পালনের রেওয়াজ চালু করেন। ১৯৩১ সাল থেকে সাদ্রা মাদ্রাসায় আমার দাদা এবং তার মৃত্যুর পর আমার বাবা ঈদ জামায়াতের ইমামতি করেছেন। বাবার মৃত্যুর পর থেকে আমি এর দায়িত্বে রয়েছি। এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে এবার ঈদের জামায়াত ভাগ করে দিয়েছি।’
শুক্রবার ঈদ উদযাপিত হওয়া চাঁদপুরের গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল, শ্রীপুর, মনিহার, বরকুল, অলীপুর, বেলচোঁ, রাজারগাঁও, জাকনি, কালচোঁ, মেনাপুর, ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাচনমেঘ, খিলা, উভারামপুর, পাইকপাড়া, বিঘা, উটতলী, বালিথুবা, শোল্লা, রূপসা, বাশারা, গোয়ালভাওর, কড়ইতলী, নয়ারহাট, মতলবের মহনপুর, এখলাসপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, বেলতলীসহ কচুয়া ও শাহরাস্তির বেশ কয়েকটি গ্রাম।
শেরপুর
শেরপুরের বিভিন্ন স্থানে আগাম পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। শেরপুর সদরের উত্তর চরখারচর ও দক্ষিণ চরখারচর, নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী পশ্চিমপাড়া ও গোবিন্দনগর ছয়আনি পাড়া, নকলা উপজেলার নারায়নখোলা ও চরকৈয়া এবং ঝিনাইগাতি উপজেলার বনগাঁও চতল গ্রামে পৃথকভাবে শুক্রবার (৩১ জুলাই) পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হয়। সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে পৃথক এসব স্থানে মুসল্লিরা পবিত্র ঈদের নামাজ আদায় করেন।
দিনাজপুর
দিনাজপুরের সদর, চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, বিরামপুর ও কাহারোল উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় একদিন আগেই পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করছে প্রায় দুই হাজার পরিবার। এসব পরিবারের মুসল্লিরা জেলার বিভিন্ন স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।
শুক্রবার সকাল ৮টায় দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টি এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে (পার্টি সেন্টার) ঈদের জামাতে শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। জামায়াতে ঈমামতি করেন মাওলানা সাইফুল ইসলাম। জেলা শহরের বেশ কিছু এলাকায় মুসল্লিরা এই নামাজ আদায় করেন। এছাড়াও দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলার সাইতাড়া ও রাবার ড্যাম এলাকা, কাহারোল উপজেলার জয়নন্দ ও গড়েয়া বাজার, বিরামপুর ও পার্বতীপুর উপজেলায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

লালমনিরহাট
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে তিন ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহার নামাজ ও কোরবারি পালন করেছেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করে কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ও তুষভান্ডার ইউনিয়নের সুন্দ্রাহবি চন্দ্রপুর ইউনিয়নের পানি খাওয়ার ঘাট ও একই ইউনিয়নের বোতলা এলাকায় এই ঈদের জামাত হয়।
ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার কয়েকটি গ্রামের শতাধিক লোক ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে উপজেলা শহরের চটকাবাড়িয়া ঈদগাপাড়া জামে মসজিদে এ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন রেজাউল ইসলাম।
ভোলা
ভোলার ৬ উপজেলার ২০ গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ শুক্রবার (৩১ জুলাই) আগাম ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন। সকাল ১০টার দিকে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাইপত্তন গ্রামের মজনু মিয়ার বাড়ির দরজায় শুরেশ্বরী পীরের অনুসারীরা ঈদের জামাত আদায় করেন। জামাতে চার গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
এছাড়াও ভোলা সদর, তজুমদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পৃথক পৃথক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে পশু কোরবানি দেওয়া হয়।
অপরদিকে, পটুয়াখালীর বরদপুর দরবার শরীফের অনুসারীরা শুক্রবার সকালে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন এবং পরে পশু কোরবানি করেছেন।

