করোনায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ঈদুল আজহা
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২০ । আপডেট: ১১:০০
ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে দুয়ারে হাজির হয়েছে দেশের মুসলিমদের দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ঈদ উদযাপনে বিরাজ করছে কিছুটা শঙ্কা।
নবী হযরত ইব্রাহিমের (আ:) ইমানের পরীক্ষা নেয়ার জন্য তার একমাত্র ছেলে হযরত ইসমাইলকে কোরবানি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মহান আল্লাহ তায়ালা। নবী ইব্রাহিমের সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার স্মরণে এ দিন সচ্ছল মুসলিমরা পশু কোরবানি করে থাকেন।
এবার করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণ রেখে ঈদ উদযাপনে সরকার বিভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঈদুল-ফিতরের মতো, এবারও মানুষকে ঈদগাহ ও খোলা জায়গার পরিবর্তে নিকটবর্তী মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করতে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ঈদের নামাজের আগে মসজিদগুলো জীবাণুমুক্ত করা এবং মেঝেতে কার্পেট না বিছানোর পরামর্শ দিয়েছে সরকার।
মুসল্লিদের বাড়ি থেকে নামাজের বিছানা নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। এছাড়া মসজিদের প্রবেশপথে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। তাদের মসজিদের ভেতরে অবশ্যই মাস্ক পরতে এবং মসজিদে আগে থেকে রাখা নামাজের বিছানা ও টুপি ব্যবহার করা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, শারীরিক অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবা দেয়ায় নিয়োজিতদের ঈদের নামাজে অংশ নিতে দেয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।
পশু জবাই দেয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
স্থানীয় প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, জনপ্রতিনিধি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মীরা এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটিকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ ঈদে জাতীয় ঈদগাহের পরিবর্তে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে সকাল ৭টায়।
এদিকে মসজিদে মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় শেষে পশু কোরবানিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সবাই। কাকডাকা ভোরে ঘুম ভেঙে পশুকে কোরবানি করার জন্য গোসল করিয়ে প্রস্তুত করে রাখা হয়।
এছাড়া নিজেরাও গোসল করে জামা কাপড় পরিধান করে এবং আঁতর সুগন্ধি মেখে নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদের ছুটে যান। স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে নির্দিষ্ট দূরত্বে বসে এবং মাস্ক পরিধান করে মুসল্লিরা নামাজের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। মসজিদের ইমাম এ সময় খুতবা পাঠ করেন।
খুতবা পড়ার সময় কীভাবে কোরবানি করতে হবে, কোরবানির মাংস কীভাবে বিলিবণ্ঠন করতে হবে ইত্যাদি সম্পর্কে বয়ান করেন। এছাড়াও বয়ানে মহামারি করোনাভাইরাস ও চলমান বন্যা থেকে দেশবাসীকে রক্ষার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানান। নামাজ আদায় শেষে আল্লাহর কাছে দেশের মঙ্গল কামনায় মোনাজাত করা হয়।

