ঢাবির প্রক্টরিয়াল টিমকে মারধর, আটক ৮
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০ । আপডেট: ১২:৪০
কোরবানির ঈদের দিন টিএসসিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন ৮ জনকে আটক করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুর রহমান সরদার বলেন, ঈদের দিন প্রক্টরিয়াল টিমের ওপর হামলার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সন্দেহভাজন ৮জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। এদের মধ্যে এজাহারভুক্ত সুজন নামে একজন রয়েছে। বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
জানা গেছে, গত শনিবার ঈদের দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে ক্যাম্পাসে বহিরাগত তাড়াতে গিয়ে টিএসসির সড়কদ্বীপে প্রক্টরিয়াল টিমের ৪জন সদস্য পিটুনিতে আহত হন। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ ঘটনায় রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শাহবাগ থানায় একটি মামলা করে। সোমবার (৩ আগস্ট) পুলিশ ৮ জনকে আটক করে।
প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের অভিযোগ, ঈদের দিন প্রচুর বহিরাগত লোকজন ক্যাম্পাসে ভিড় জমিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় সবাইকে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে মাইকিং করেন তারা। এ সময় টিএসসির সড়কদ্বীপে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন এমন প্রায় ১৫ জন ব্যক্তিকে বসে থাকতে দেখে তাদের স্থান ত্যাগের অনুরোধ করেন। তারা স্থান ত্যাগ না করে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাদের মারধর করেন। তাদের অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের সন্তান এবং স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান আসাদের (ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ২১ নম্বর ওয়ার্ড) অনুসারী বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এ বিষয়ে কাউন্সিলর আসাদ বলেন, ওই দিন আমরা ক্যাম্পাসে কোরবানির মাংস রান্না করে ছিন্নমূল মানুষদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেছিলাম। সঙ্গত কারণেই অনেক মানুষ এসেছিল ক্যাম্পাসে। কিন্তু প্রক্টরিয়াল টিমের এরূপ আচরণ ঠিক হয়নি। নাজমুল নামে প্রক্টরিয়াল টিমের একজন সদস্য বিভিন্ন সময় ‘উগ্র’ অচরণ করেন বলে উল্টো অভিযোগ করেন কাউন্সিলর আসাদ। ‘যাদের আটক করা হয়েছে তারা এই মহামারীতে ক্যাম্পাসে করোনাযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছে’ বলেও দাবি ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের।
অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ থাকলে আমাদের জানাতে পারত। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত তাদের সাথে এ ধরনের আচরণ (মারধর) কাম্য নয়।

