করোনার উপগর্স নিয়ে মারা গেলেন আরও এক চিকিৎসক
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০ । আপডেট: ১৯:৫৬
সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে যখন করোনা সংক্রমণের গতি কমে আসা ও নিয়মিত
স্বাস্থ্য বুলেটিন বন্ধ করার ঘোষণা আসছে, তখন করোনায় আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকদের মৃত্যু বাড়ছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত গত ৩ দিনে দেশের বিশেষজ্ঞ ৫ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গ নিয়ে। এর মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও স্যর সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক কান গলা (ইএনটি) বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আসাদুল হক খান মারা গেছেন আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন। তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপক ডা. আসাদুল হক খান সরকারি চাকরি থেকে অবসরগ্রহণের পর সিরাজগঞ্জের বেসরকারি শহীদ মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইএনটি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কয়েক বছর।
ইউনাইটেড হাসপাতালের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক ডা. সাগুফতা আনোয়ার বলেন, ৭৫ বছর বয়সী অধ্যাপক ডা. আসাদুল হক খান করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মারা গেছেন। তিনি বাইল্যাটারাল নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। সেই সঙ্গে তার কোভিড-১৯ এর উপসর্গও ছিল। তবে গতকাল করোনা পরীক্ষায় ফলাফল নেগেটিভ আসায় তাকে সাধারণ আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। তার স্ত্রী করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। তিনিও এখন ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস’ সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিসের (এফডিএসআর) যুগ্ম মহাসচিব ডা. রাহাত আনোয়ার চৌধুরী জানান, এ নিয়ে করোনায় দেশে এখন পর্যন্ত ৮০ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। আর করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ১২ জন চিকিৎসক। অপরদিকে, প্রফেসর ডাঃ আসাদুল হক খানসহ এ পর্যন্ত দেশে করোনা বা কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গ নিয়ে ১০৫ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকদের সংগঠন বিএমএ সূত্রে জানা গেছে।

