দুর্নীতিতে ‘অভিযুক্ত’ সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহা
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০ । আপডেট: ১৪:৪২
জালিয়াতির মাধ্যমে ফারমার্স ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক প্রধান বিচারপতি দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হলেন। তাকে পলাতক দেখিয়েই এ মামলার বিচার কাজ চলবে। ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেষ নাজমুল আলম বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর জন্য ১৮ অগাস্ট দিন ঠিক করে দেন।
আসামিদের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতীকে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য এদিন কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আর এ মামলায় জামিনে থাকা ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীম এবং সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিনও এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দুদকের অন্যতম আইনজীবী রুহুল ইসলাম খান জানান, আদালতে হাজির তিন আসামিকে নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগ পড়ে শুনিয়ে জানতে চাওয়া হয় তারা দোষী না নির্দোষ। বাবুল চিশতী, শামীম ও সালাহউদ্দিন নিজেদের নির্দোষ দাবি করে সুবিচার চান। তাদের আইজীবীরা মামলা থেকে অব্যাহতিরও আবেদন করেন। কিন্তু শুনানি শেষে বিচারক পলাতক আটজনসহ ১১ আসামির সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর সিদ্ধান্ত দেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) সাবেক ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়। আসামিদের মধ্যে কেবল বাবুল চিশতী অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। আর বিচারপতি সিনহা অবস্থান করছেন কানাডায়।
দুদক কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ গতবছর ৯ ডিসেম্বর ১১ জনকে আসামি করে এ মামলার অভিযোগপত্র দেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবের ৪ কোটি টাকা জব্দ করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ফারমার্স ব্যাংকে ভুয়া ঋণ সৃষ্টি করে সেই টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর, উত্তোলন ও পাচার করেছেন, যা দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২)(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

