বিচারপতি সিনহার দুর্নীতি মামলা: ৪ আসামি আত্মসমর্পণের পর জামিন
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২০ । আপডেট: ১৮:৫৫
সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলার পলাতক ৮ আসামির মধ্যে ৪জন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন। এই ৪ জন হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক এবং টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তারা ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক শেখ নাজমুল আলম তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। একই বিচারক গত ১৩ অগাস্ট এ মামলার ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। সে অনুযায়ী, মঙ্গলবার এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।
আসামিদের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী কারাগারে আছেন। আর ব্যাংকের সাবেক এমডি একেএম শামীম এবং সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন আগে থেকেই জামিনে আছেন। সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ছাড়াও ফারমার্স ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায় এখনও পলাতক।
জামিন শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ঢাকা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মামুন বলেন, এ মামলার মূল আসামিদের একজন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম শামীম জামিনে রয়েছেন, যিনি ঋণটি অনুমোদন করেছিলেন সে কারণে বাকি আসামিরাও জামিন পাওয়ার ‘হকদার’।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের অন্যতম আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ’ওই আসামিদের বিষয় আর এই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এক নয়। ওই আসামিদের জামিন দিয়েছিলেন ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কেএম ইমরুল কায়েশ। তিনি কেন জামিন দিয়েছেন সেটা তিনিই জানেন। তবে এরা দায়ী। মামলার বিচারের এ পর্যায়ে এদের জামিন দেওয়া যৌক্তিক হবে না।
শুনানির সময় বিচারক আসামি নিরঞ্জন ও শাহজাহানকে কাছে ডেকে তাদের পরিচয় এবং অপরাধ সম্পর্কে জানতে চান। নিরঞ্জন বলেন, আমি রনজিতের আত্মীয়। আমি কৃষক, ওর কথায় সরল বিশ্বাসে কাগজে স্বাক্ষর করেছি। আর শাহজাহান বলেন, ’আমি রনজিতের সহপাঠী ছিলাম, আমি স্কুল শিক্ষক। আমি তার কথায় একটা কাগজে সই দিই। যদি জানতাম যে, এ রকম বিষয়, তাহলে তার অনুরোধ এড়িয়ে যেতাম।’ শুনানি শেষে বিচারক আত্মসমর্পণ করা ৪ আসামিকেই জামিন মঞ্জুর করেন।
সাক্ষ্য গ্রহণের প্রথম দিন মামলার বাদী দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন রাষ্ট্রপক্ষের ১ নম্বর সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন। তিনি বলেন, আসামিদের মধ্যে কেউ কেউ ‘সরল বিশ্বাসে’ কাজ করেছে। আর আসামি একেএম শামীম ও গাজী সালাহউদ্দিনের পক্ষে তাদের আইনজীবী শাহীনুল ইসলাম অনি বাদীকে জেরা করেন। পরে বিচারক ২৫ অগাস্ট পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করে দেন।
দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন ২০১৯ সালের ১০ জুলাই এসকে সিনহাসহ ১১ জনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেন।

