দেশের দক্ষিণাঞ্চল বন্যা কবলিত, দুর্ভোগ
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২০ । আপডেট: ২০:১৫
বরিশাল ও খুলনা বিভাগের বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, ঝালকাঠি, খুলনা ও বাগেরহাট জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্প মেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় পটুয়াখালী থেকে কাজী মাহতাব উদ্দীন নাম একজন কলেজ ছাত্র জানান, পটুয়াখালী শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা গত ৫ দিন ধরে প্লাবিত হয়ে আছে। ঘর থেকে মানুষ বের হতে পারছে না। এর মধ্যে শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার বড়বিভাই ইউনিয়নের তোফায়েল আহমেদ মৃধা জানান, পায়রা নদীতে উচ্চ জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে ইউনিয়নের দক্ষিণ তিতকাটাসহ বিভিন্ন এলাকা। পানি ঘরে প্রবেশ করায় অনেক বাড়িতে রান্না করার মতো অবস্থঅ নেই। দীর্ঘদিন ঘরে বেড়িবাঁধ ভাঙা থাকায় এই দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে সদর উপজেলার বড়বিঘাই, ছোটবিঘাই, মাদারবুনিয়া ইউনিয়নসহ কলাপাড়া, গলাচিপা, দুমকি, বাউফল, দশমিনা, মির্জাগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে। এ পর্যন্ত ওইসব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের সহায়তা পৌঁছেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
একই অবস্থা বরগুনা, ভোলা জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যাকবলিত মানুষের। বাসসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিবৃষ্টি ও উচ্চ জোয়ারের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের নদীসমূহের পানিসমতল দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং এসব অঞ্চলের কীর্তনখোলা, তেঁতুলিয়া, পায়রা, বিষখালি, বলেশ্বর, বুড়িশ্বর, নয়াভাঙ্গানি ও মেঘনা নদীর পানি সমতল বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) উপকূলীয় বন্য সম্পর্কিত বিশেষ এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য এবং দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয়ও দক্ষিণ-মধ্য অঞ্চলে চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে (১৭-১৮ আগস্ট হতে) মাঝারি থেকে ভারী (৪৪ মি.মি. -৮৮ মি.মি.) ও কিছু স্থানে অতিভারী (>১০০ মি.মি.) বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। একইসাথে উত্তর-মধ্য বঙ্গোপসাগরে লঘু নিম্নচাপ অমাবস্যার প্রভাবে সাগরে ̄স্বাভাবিকের চেয়ে ১-২ ফুট অধিক উচ্চতার জোয়ার দেখা যাচ্ছে।

