গ্রেনেড হামলায় খালেদাকে জড়ানোয় ফখরুলের প্রতিবাদ
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২০ । আপডেট: ২১:৩০
একুশে অগাস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় খালেদা জিয়াকে জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি মহাসচিব ফখরুল জানিছেন, ওই হামলার পর ‘হতবাক ও বিচলিত’ হয়ে পড়েছিলেন তাদের নেত্রী। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বলেও দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব। যদিও সে সময় ‘জজ মিয়া’ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে নাটক সাজানোর বিষয়টি পরে প্রমাণিত হয়েছে।
ইতিহাসের জঘন্য ওই হামলার ১৬ বছর পূর্তিতে গতকাল শুক্রবার এক কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই সময়কার ঘটনাবলী স্মরণ করে হামলার জন্য তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারকে দায়ী করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে শনিবার (২২ আগস্ট) এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গতকাল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী যুক্ত হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি আমাকে মারার চেষ্টা করেছেন…। এছাড়াও তিনি বেগম জিয়াকে নিয়ে আরও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছেন, যা অনভিপ্রেত ও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিএনপি চেয়ারপারসনকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আমি নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা ও গুলিবর্ষণে দলের তখনকার মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত, আহত হয়েছিলেন কয়েকশ মানুষ। সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো ওই হামলার মামলার রায়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। মামলাটি এখন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।

