বাংলাদেশের মানুষ না চাইলে চলে যাবো: ড. বিজন কুমার

বাংলাদেশের মানুষ না চাইলে চলে যাবো: ড. বিজন কুমার

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২০ । আপডেট: ১৯:২০

আলোচিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কিট ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লোট’ উদ্ভাবক দলের প্রধান বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীলের জন্ম বাংলাদেশে। ২০০২ সালে সিঙ্গাপুরের সিভিল সার্ভিসে যোগদানের সময় নিয়ম অনুযায়ী তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে দেন। একইসঙ্গে তখন তিনি সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে অবস্থান করছেন। বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করার জন্য ওয়ার্ক পারমিট ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ সরকারের কাছে তার ওয়ার্ক পারমিট ভিসার মেয়াদ বাড়ানো আবেদন জমা দেওয়া আছে।

এ বিষয়ে ড. বিজন কুমার শীল রবিবার (৩০ আগস্ট) বলেন, আমার ভিসার মেয়াদ আরও এক বছর আছে। আমার ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য গণবিশ্ববিদ্যালয় আবেদন করেছে। তাদের কাছে কিছু কাগজপত্র ছেয়েছে। এখনও দেশের মানুষ যদি মনে করে, আমি তাদের কোনও উপকার করি নাই তাহলে আমি সিঙ্গাপুর চলে যাবো। আর দেশের মানুষ চাইলে সরকার আমাকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা দেবে।

বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল গণবিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান। চলতি বছরের ১ জুলাই তার ওয়ার্ক পারমিট ভিসার মেয়াদ শেষ হয়। গণবিশ্ববিদ্যালয় চাকরির থেকে অব্যাহতির খবরের প্রসঙ্গে ড. বিজন কুমার বলেন, গুজবের বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। আপনি গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেন। তারাই আমার ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য কাগজপত্র জমা দিয়েছে।

গণস্বাস্থ্যের করোনা অ্যান্টিবডি কিটের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে ডা. বিজন কুমার বলেন, ‌’আমার রিএজেন্ট আমদানির অনুমতি পেয়েছি। বিদেশি রিএজেন্টের অর্ডারও করা হয়েছে। সেইগুলো আসলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় দেওয়া হবে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬১ সালে জন্ম নেওয়া নাটোরের কৃষক পরিবারের সন্তান ড. বিজন কুমার শীল বনপাড়া সেন্ট জোসেফ স্কুল থেকে এসএসসি ও পাবনা অ্যাডওয়ার্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ভর্তি হন ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভেটেরিনারি সায়েন্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্নাতক পাস করেন। অণুজীব বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও নিয়েছিলেন এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। পরে কমলওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে ‘শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি’ বিষয়ে পিএইচডি করেন যুক্তরাজ্যের দ্য ইউনিভার্সিটি অব সারে থেকে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি সুপরিচিত গবেষক ও অণুজীব বিজ্ঞানী হিসেবে। তথ্য সহায়তা বাংলাট্রিবিউন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading