জলি আহমাদ-এর “নবম গ্রহ”
শিল্প-সাহিত্য । উত্তরদক্ষিণ
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০ । আপডেট ১০:২৮
মনের ভিতর পৃথিবীর সমান নবম এক গ্রহ আছে।
সেই গ্রহের যা মন চায়,
তাই করি।
কোনো বাধা নেই, বারণ নেই, শাসন নেই।
সেখানে নিজের মতো থাকি,
ঘুরিফিরি,
খেলি,
মনের মতো সাজি,
পরি,
ইচ্ছে মতো বাঁচি।
কেউ কিছু বলার নেই।
কেউ না।
শুনতে হয় না;
‘এটা পরো না’,
‘চুল কেটো না, বেঁধো না,’
‘ভ্রু তুলো না।’
সন্ধ্যা হলে কেউ বলার সাহস পায় না—
‘বাইরে যেও না।’
‘—ঘোমটা দাও।’
‘এতো লেট হল কেনো?’
‘জানো না মেয়েদের ঘরে থাকতে হয়!’
মেয়েদের— চোখে চোখ রেখে কথা বলার অধিকার নেই।
অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে নেই।
পায়ের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে হয়।
সেই গ্রহটা সমস্ত কুসংস্কার থেকে মুক্ত।
হাতের চুড়ি, নাকফুল—
না পরলে কেউ বলতে পারে না
—‘অমঙ্গল হবে।’
‘স্বামীর আয়ু কমে যাবে।’
কেউ বলতে পারে না—
‘হাতভর্তি চুড়ি, শব্দ করা নূপুর পরেছে কেনো?’
সেখানে নাচ, গান, ছবি আঁকা, তোলা,
—সবকিছুই বৈধ।
ভালোলাগা-ভালোবাসার অনুভূতিও…
সেখানে ইচ্ছে মত মন খারাপ করা যায়,
হাসা যায়,
কান্না করা যায়।
নিজের পছন্দ-অপছন্দ,
ভালোলাগা, খারাপলাগা অনুভূতি—
একান্তই নিজের।
সেই গ্রহটা নিজের।
একান্তই ব্যক্তিগত।

