ইউএনওর উপর হামলা: র্যাব-পুলিশের ভিন্ন বক্তব্য!
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০ । আপডেট ১৯:২০
ইউএনও ওয়াহিদা খানমের উপর হামলায় জড়িত ব্যক্তি নিয়ে দুটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী- র্যাব ও পুলিশের ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। যাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব বলেছিল, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের উপর হামলাটি চুরির ঘটনা; সেই আসাদুল হক ওই ঘটনায় জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য। ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের বরখাস্ত এক মালি রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে ডিআইজি দেবদাস শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বলেছেন, ‘এই ব্যক্তিই হামলায় জড়িত’।
গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বাসভবনের ভেন্টিলেটর দিয়ে ঢুকে ইউএনও ওয়াহিদা ও তার বাবা ওমর আলীর উপর হামলা চালানো হয়। মাথায় হাতুড়ির আঘাতে গুরুতর আহত ওয়াহিদা এখন ঢাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপােড়ের মধ্যে দুদিন পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৩ অধিনায়ক রেজা আহমেদ ফেরদৌস রংপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চুরি করতে ওই বাড়িতে ঢুকেছিল আসাদুল (৩৫)। তার সহযোগী ছিল নবীরুল ইসলাম (৩৪) ও সান্টু কুমার বিশ্বাস (২৮)।
আলোচিত ওই ঘটনার ছায়া তদন্তে নামা র্যাব এটাও বলেছিল যে, আসাদুল ‘নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার’ করেছেন। তবে এই ঘটনা নিছক চুরির ঘটনা হিসেবে মানতে আপত্তি জানায় সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, ওয়াহিদার উপর হামলা পূর্বপরিকল্পিত।
এর পর শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নিজেদের তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরতে দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে আসেন রংপুরের ডিআইজি দেবদাস। এসময় তিনি বলেন, ‘ইতিপূর্বে আটক আসাদুল ইউএনও’র উপর হামলায় জড়িত নয়।’
ঘোড়াঘাট উপজেলার সাগরপুর এলাকার আসাদুল এখন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে রয়েছেন। ডিবি এই মামলার তদন্ত করছে। আসাদুল যুবলীগের স্থানীয় নেতা ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা আসে।
বরখাস্ত মালি রবিউল ইসলামকে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে গ্রেপ্তার করা হয় বলেও এদিন সাংবাদিকদের জানান ডিআইজি দেবদাস। রবিউলের বাড়ি বিরল উপজেলার বিজোড়া গ্রামে। ডিআইজি দেবদাস বলেন, ‘রবিউলকে গ্রেপ্তারের পর রাতেই তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। সে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।’
রবিউলের উদ্দেশ্য কী ছিল- তা জানতে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে বলে জানান রংপুর রেঞ্জ পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা দেবদাস। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার সাথে আর কারা জড়িত আছে কি না, কী কারণে এই ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়গুলো তদন্ত করা হবে।
এর পর শনিবার বিকালে রবিউলকে আদালতে হাজির করে দিনের রিমান্ডে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা ডিবির ওসি ইমাম জাফর। রবিউলকে কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল, সে বিষয়েও ডিআইজি কিছু বলেননি। তবে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ একজন কর্মচারী জানিয়েছেন, টাকা চুরির অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
হামলার পর ইউএনওর ভাই শেখ ফরিদ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে একটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় র্যাবের হাতে আটক আসাদুল, নবীরুল ও সান্টুকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। চতুর্থজন হিসেবে গ্রেপ্তার হলেন রবিউল। তথ্য সহায়তা বিডিনিউজ।

