টাঙ্গাইলে জোড়া খুন: সৎভাইসহ ৬ জনের প্রাণদণ্ড
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ । আপডেট ১৮:৪০
সম্পত্তির জন্য ৩ বছর আগে টাঙ্গাইলের এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ও তার স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় সৎভাইসহ ছয়জনের ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। ঢাকার-১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
২০১৭ সালের ২৬ জুলাই রাতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুরে প্রাইমারি স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অনিল কুমার দাস ও তার স্ত্রী কল্পনা রানী দাস খুন হন। পরদিন বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে তাদের লাশ পাওয়া যায়। ওই ঘটনার ৯ মাস পর পুলিশ হত্যা রহস্য উদঘাটন করে জানায়, জমিজমা নিয়ে বিরোধে সৎ ভাই স্বপন কুমার দাসের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন অনিল ও তার স্ত্রী।
ওই মামলার বিচার শেষে আসামি স্বপন কুমার দাস এবং তার সহযোগী জাহিদুল ইসলাম, ফরহাদ, মনিরুজ্জামান ভুইয়া, মঞ্জুরুল ইসলাম ও শায়ান মিয়া ওরফে ছায়ানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
হত্যার পর লাশ গোপনের জন্য সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় অন্য ধারায় আসামিদের প্রত্যেককে ৭ বছরের সশ্রম কারাদাণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। এ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু আবদুল্লাহ ভূঞা জানান, আসামিদের মধ্যে শায়ান মিয়া জামিনে ছিলেন। বাকিরা ছিলেন কারাগারে। তাদের সবাই রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর শায়ানকেও কারাগারে পাঠানো হয়।
আসামিদের আইনজীবী মাহফুজুর রহমান ও চাঁন মিয়া জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। অন্যদিকে ৬ আসামির সর্বোচ্চ সাজার রায় পেয়ে আদালতে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন নিহত দম্পতির ছেলে নির্মল কুমার দাস। বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে বাবা-মায়ের লাশ উদ্ধারের পর ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই নির্মলই টাঙ্গাইল সদর থানায় এ হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। তদন্ত শুরুর ৯ মাস পর পরের বছর ১৮ মে পুলিশ জাহিদুল, ফরহাদ, মনিরুজ্জামান ও মঞ্জুরুলকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায়। পরে বাকি দু’জনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
রায় থেকে জানা যায়, সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য স্বপন তিনটি দলিল তৈরি করে তাতে সৎভাই অনিলের সই নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। সে অনুযায়ী অন্য সহযোগীদের নিয়ে অনিলের বাড়ি যান। সেখানে প্রথমে অনিল দাসকে তারা মুখে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন। স্ত্রী কল্পনা রানী ঘটনাটি দেখে ফেলায় তাকেও হত্যা করা হয়। এরপর দুই লাশের গলায় ইট বেঁধে বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়। পরদিন পুলিশ সেখান থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করে। তদন্ত শেষে মোট ৬জনকে আসামি করে ২০১৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ২০১৯ সালের ৭ অগাস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আদালত আসামিদের বিচার শুরু করে। মামলার বিচারকালে রাষ্ট্রপক্ষে ৩৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জনের সাক্ষ্য শোনেন বিচারক। এর ভিত্তিতে রোববার ছয় আসামির সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করে তিনি রায় ঘোষণা করেন। তথ্য সহায়তা বিডিনিউজ।

