চার শিশুর বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলা স্থগিত
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২০ | আপডেট: ১৭:৫২
বরিশালের বাকেরগঞ্জে চার শিশুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই চার শিশু ও তাদের পরিবারকে কঠোর নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (১১ অক্টোবর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
পাশাপাশি ওই চার শিশুকে যশোরের পুলেরহাট শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর ঘটনায় বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনায়েত উল্লাহকে সতর্ক করে তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালামকেও ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
এর আগে ধর্ষণের অভিযোগে মামলায় চার শিশুকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর ঘটনায় ব্যাখ্যা দিতে বাকেরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনায়েত উল্লাহকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। রবিবার (১১ অক্টোবর) সশরীরে হাইকোর্টে হাজির হয়ে তাকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল। এছাড়াও বাকেরগঞ্জ থানার ওসিকে ওই চার শিশুর অভিভাবকসহ হাইকোর্টে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। এদিকে বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে ভিকটিম শিশুদের ধর্ষণ সংক্রান্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন।
পাশাপাশি যশোরের জেলা প্রশাসককে যশোর পুলেরহাট শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে ওই চার শিশুকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাসে করে রাতের মধ্যে অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।
ধর্ষণের মামলায় চার শিশুকে গ্রেফতার করে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো নিয়ে বেসরকারি সময় টিভিতে প্রচারিত সংবাদ আমলে নিয়ে গত ৮ অক্টোবর রাত ৯টায় বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন। হাইকোর্টের সেই আদেশের পর বরিশালের শিশু আদালতের বিচারককে ওই চার শিশুর জামিন নিষ্পত্তির বিষয়েও আদেশ দেওয়া হয়েছিল। আদেশ অবগত হওয়ার পর বরিশালের শিশু আদালতের বিচারক তৎক্ষণাৎ ওই চার শিশুর জামিন মঞ্জুর করেন।
প্রসঙ্গত, বাকেরগঞ্জে গত ৪ অক্টোবর ছয় বছরের এক প্রতিবেশী মেয়েশিশুর সঙ্গে চার ছেলেশিশু বাগানে বসে খেলছিল। এরপর মেয়ে শিশুটিকে তার পরিবার অসুস্থ অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে নিয়ে যায়। এরপর সেই চার ছেলেশিশুকে গত ৬ অক্টোবর আসামি করে বাকেরগঞ্জ থানায় মেয়েশিশুর বাবা ধর্ষণের মামলা করে। মামলায় চার শিশুকে গ্রেফতার করে গত ৭ অক্টোবর আদালতে হাজির করা হলে তাদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন বাকেরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনায়েত উল্লাহ।
এদিকে শিশুদের স্বজনদের অভিযোগ, তাদের শিশুরা ধর্ষক নয়। শত্রুতার জের ধরে তাদের সন্তানদের ফাঁসানো হয়েছে। এরপর এ নিয়ে সময় টিভিতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে হাইকোর্ট আদেশ দেন।

