এখনো সরকারি দামে আলু মিলছে না
উত্তরদক্ষিণ | শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০ | আপডেট: ১:২১
সরকার খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম সর্বোচ্চ ৩০ টাকা কেজিতে বেঁধে দেওয়ার এক সপ্তাহের বেশি সময় পরও নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যটি সেই দামে রাজধানীতে মিলছে না। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ৪২ টাকা থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর কারওয়ানবাজারের পাইকারি বিক্রেতারা একপাল্লা (পাঁচ কেজি) আলু বিক্রি করছেন ২২০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম ৪৪ টাকা পড়ে। পাড়া-মহল্লার দোকানে খুচড়ায় এই আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকা থেকে ৫০ টাকায়।
কারওয়ানবাজারের এক পাইকার বলেন, সরকার দাম কমাতে চাপ দিলেও বাস্তবে বেপারিরা দাম কমাচ্ছে না বা কমাতে পারছেন না। “বেচাকেনায়ও স্থবিরতা নেমে এসেছে। গত দুই দিনে কারওয়ান বাজারে নতুন করে কোনো আলু ঢুকেনি। স্টকের মালও বিক্রি হয়নি।”
প্রতি কেজি আলুর খুচরা দাম ৫০ টাকায় ওঠার পর ৭ অক্টোবর পণ্যটির উৎপাদন ও সংরক্ষণসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যয় বিশ্লেষণ করে মুনাফা ধর হিমাগার পর্যায়ে ২৩ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা ও খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৩০ টাকায় বেঁধে দেয়ে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।
তবে রাজশাহী অঞ্চল থেকে ঢাকায় আলু সরবরাহকারী একজন বলেন, এবার আলুর মজুদ খুবই কম। বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় মহাজনরা দাম বাড়িয়েছেন। “গত কয়েক বছরে অনেকেই আলুর ব্যবসা করতে গিয়ে দেউলিয়া হয়েছিলেন। তারা এবার ৪০ টাকার নিচে আলু ছাড়তে চাচ্ছেন না।”
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, দেশের সব জায়গায় আলুর দাম কমতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। “কারণ ইতোমধ্যে গুদাম থেকে বেশ চড়া দামে কিছু আলু বাজারে এর মধ্যে এসে গেছে। কয়েকদিনের মধ্যে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়বে।”
গতকাল শুক্রবারও রাজধানীর কয়েকটি আড়তে অভিযান চালাতে গেলে ব্যবসায়ীরা ৩০ টাকা কেজিতে আলু বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

