চট্টগ্রামে ছেলের সামনে বাবা খুন, গণপিটুনি বলে চালানোর চেষ্টা

চট্টগ্রামে ছেলের সামনে বাবা খুন, গণপিটুনি বলে চালানোর চেষ্টা

উত্তরদক্ষিণ | শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০ | আপডেট: ১৯:২৬

ছেলের সামনে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার পর ঘটনাকে গণপিটুনি বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল হত্যাকারীরা। চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার চাক্তাই ভেড়া মার্কেট কলোনি সংলগ্ন নতুন ফিশারিঘাট-কোতোয়ালী সড়কের উপর গতকাল শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আবু তৈয়ব (৪৫) নতুন ফিশারি ঘাটে শ্রমিক সরবরাহ করতেন। পাশাপাশি নতুন তৈরি নৌযান নদীতে ভাসাতে চুক্তিভিত্তিক কাজ করতেন।কর্ণফুলী থানার শিকলবাহা মাস্টার হাট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা তৈয়ব নতুন ফিশারী ঘাট এলাকায় আকতারের কলোনিতে পরিবারসহ ভাড়া থাকতেন।

শুক্রবার রাতে ঘটনার পর ‘প্রতিবেশীদের সাথে বিরোধের জেরে মারধরে’ তৈয়ব নিহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছিল। এরপর শুক্রবার রাত থেকে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, ‘পূর্ব শত্রুতার জেরে’ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, চাঁদা না পেয়ে ডেকে নিয়ে তৈয়বকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তাররা হলেন- আকতার হোসেন ওরফে কসাই আকতার (৪১), সাইফুদ্দিন (৪১), রায়হান উদ্দিন রানা (২৫), আশরাফুল ইসলাম (২৮), মো. সবুজ (৩৫), আবু তাহের কালু (২০) ও হাসিনা (২৬)। হত্যাকাণ্ডে জড়িত আকতারের ভাই মুন্না ও কবির নামের দু’জন পলাতক।

সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মেহেদী হাসান বলেন, শুক্রবার রাত আটটায় ভেড়া মার্কেট এলাকা থেকে খবর দেয় গণপিটুনিতে একজন মারা গেছে। “পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আশেপাশের লোকজনের সাথে কথা বলে আমরা জানতে পারি- পূর্বপরিকল্পিভাবে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে তাকে হত্যা করে গণপিটুনি বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়। হত্যাকাণ্ড যে নয়জনের নেতৃত্বে হয়েছে তাদের সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছি।”

নিহত আবু তৈয়বের ছেলের সামনেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, নিহতের ছেলে বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছে। “প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য পেয়েছি তদন্তের স্বার্থে এখনই তা প্রকাশ করতে চাই না।”

হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে চাইলে মেহেদী হাসান বলেন, “ওই কলোনির ইনচার্জ হাসিনার সঙ্গে নিহতের পূর্ব শত্রুতা ছিল। মাঝেমাঝেই বাক বিতণ্ডা হত। এতে হাসিনাও জড়িত।

“অনেক ধরনের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় ছিল। গতকাল সকালেও হাসিনার সঙ্গে তৈয়বের বাক বিতণ্ডা হয়। দুই পক্ষের মধ্যে দখল বেদখল নিয়ে একটা সংকট ছিল।” তবে নিহতের স্বজনদের দাবি ভিন্ন।

সিএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) কার্যালয়ে উপস্থিত নিহতের বড় ছেলে মো. শাজাহান সাংবাদিকদের বলেন, “আমার বাবা ৪০-৫০ হাজার টাকায় একটা বোট নামাতো। তারা বলে তাদের অর্ধেক টাকা ট্যাক্স (চাঁদা) দিতে হবে। এটা নিয়ে পরশু হাতাহাতি হয়। তখন কসাই আকতার বলে যে, ‘বিচার করবে’।

“কসাই আকতার শুক্রবার তার অফিসে যেতে বলে। আমি বাবার সাথে যাই। আমরা অফিসে ঢুকতেই কসাই আকতার বলে, ‘এই ল’ (নাও)। এটা বলেই কয়েকজন রামদা, কিরিচ, বটি নিয়ে বাবাকে হামলা করে। তখন কসাই আকতার বলে, একেবারে মেরে ফেল। এসময় তার ভাই মুন্না, হাসিনাসহ চার-পাঁচজন ছিল।”

হামলার শিকার আবু তৈয়ব দৌড়ে সংলগ্ন নতুন ফিশারীঘাট-কোতোয়ালী সড়কে উঠে পড়েন। তখন প্রায় ২০-২১ জন লোক মিলে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে বলে জানান শাজাহান।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading