তৃতীয় বর্ষপূর্তিতে ওমেন্সকর্নার
আল আমীন | উত্তরদক্ষিণ
ঢাকা: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০ | আপডেট: ১২:৩৫
শুরুটা ছিল একটি ওয়েবসাইট, একটি ফেসবুক পেইজ এবং গ্রুপ নিয়ে, ধীরে ধীরে অফলাইনেও যাত্রা শুরু। দেখতে দেখতে তিন বছর পার করলো ওমেন্সকর্নার (womenscorner.com.bd)।
এই তিন বছরে ওমেন্সকর্নার-এর বিভিন্ন কার্যক্রমের বিস্তার (অফলাইনে) ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানী শহর ঢাকার পাশাপাশি কক্সবাজারেও। সামাজিক সেবামূলক এই সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে — মাতৃত্বকালীন সমস্যাসহ নারী ও শিশু স্বাস্থ্য এবং বয়ঃসন্ধিকাল নিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, বেদে পল্লীতে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম, শীতে কম্বল বিতরণ, ট্রাফিক পুলিশ আর খেটে খাওয়া মানুষদের মাঝে ইফতার বিতরণ, বস্তিতে ব্লাড টেস্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং যার যেমন সমস্যা সেই অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট এবং ওষুধ প্রদান, ইদে বাচ্চাদের ড্রেস এবং সবার পরিবারে সেমাই, চিনি, গুঁড়ো দুধ বিতরণ ইত্যাদি।
এ নিয়ে কথা হয়, ওমেন্সকর্নার-এর এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি ফারজানা আক্তারের সাথে।
দৈনিক উত্তরদক্ষিণকে তিনি বলেন, “তিন বছরে অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়েছি। শুরুটা একটা ওয়েবসাইট আর একটা ফেসবুক পেইজ, গ্রুপ নিয়ে হলেও ধীরে ধীরে আমরা অফলাইনেও যাত্রা শুরু করি। ওমেন্সকর্নারের মেইন ফোকাস ছিলো নারী এবং শিশুদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করে তোলা। আমাদের দেশের বেশিরভাগ মেয়ে তাদের মেয়েলি সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের সাথে আলোচনা করতে লজ্জাবোধ করেন। এই কারণে তারা তাদের সমস্যা চেপে রাখেন। ধীরে ধীরে সেই সামান্য সমস্যা একদিন তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই চিন্তা ভাবনা থেকে ওমেন্সকর্নারের যাত্রা শুরু।”

“আমাদের ফেসবুক পেইজে মেসেজের মাধ্যমে অনেকে তাদের স্বাস্থ্যের সমস্যা শেয়ার করেন। মেডিকেল টিম তাদের সমস্যার সমাধান দেন। সেই সাথে আমাদের ফোন কলের সুবিধাও হয়েছে। ইমারজেন্সি থাকলে তারা ফোন কলে সুবিধাও নিতে পারবেন।” যোগ করেন ফারজানা আক্তার।
তিনি আরও বলেন, “শারিরীক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যেরও যত্নের প্রয়োজন। আমাদের কাউন্সেলিং টিমও আছেন। যারা মানসিকভাবে অসুস্থ এবং নানান কারণে ডিপ্রেশনে আছেন তারা এই সেবা নিয়ে থাকেন।”
শুধু স্বাস্থ্য সেবাই নয়, নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলার জন্যও রয়েছে সংগঠনটির বিশেষ উদ্যোগ।
এ নিয়ে ওমেন্সকর্নার-এর এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি বলেন, “আমাদের দেশে এখন শিক্ষিত নারীর সংখ্যা বাড়লেও স্বাবলম্বী নারীর সংখ্যা সেভাবে বাড়েনি। অথচ সবারই নিজস্ব একটা পরিচয়ের দরকার হয়। যারা গৃহিনী কিন্তু কিছু একটা করার প্রয়াস রয়েছে। সুযোগ পাচ্ছেন না কিংবা বাইরে গিয়ে কাজ করার মতো অবস্থা বা সক্ষমতা নেই। তাদের জন্য রয়েছে আমাদের “srishti – সৃষ্টি।” সৃষ্টি ওমেন্সকর্নারেই নারীদের স্বাবলম্বীকরন প্রজেক্ট। এখানে গৃহিনী, সুবিধাবঞ্চিত নারী এবং কিশোরীরা কাজ করেন।”
ওমেন্সকর্নার-এর কার্যক্রম নিয়ে বলতে গিয়ে সংগঠনটির এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি দৈনিক উত্তরদক্ষিণকে আরও বলেন, “বয়সন্ধিকাল আমাদের সকলের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অথচ আমাদের দেশে এই নিয়ে বাবা মা বা পরিবারের সকলে তেমন সচেতন নন। কিশোর কিশোরীদের সঠিকভাবে গাইডলাইন দেওয়ার জন্য আমাদের প্রজেক্ট সু-কিশোরী। কক্সবাজারে কিশোরীদের নিয়ে আমাদের কাজ হচ্ছে। তবে চলমান করোনাভাইরাস অতিমারি পরিস্থিতিতে এটি আপাতত বন্ধ আছে। কিশোরদের নিয়ে প্রজেক্ট এখনো শুরু হয়নি।”
এ সময় তিনি বলেন, “প্যারেন্টিং খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এবং সেই সাথে ছোট ছোট বাচ্চাদের সমাজের বিভিন্ন কালো দিক সম্পর্কে সচেতন করা। বিশেষ করে গুড টাচ এবং ব্যাড টাচ। প্যারেন্টিং এবং ছোট বাচ্চাদের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করার লক্ষ্যে আমাদের প্রজেক্ট ফুলকুড়ি। পুরান ঢাকার একটি স্কুলে আমরা কিছু সেশন করেছি আর বস্তিতে প্যারেন্টিং নিয়ে কিছু সেশন হয়েছে।”
“তিন বছরে ওমেন্সকর্নারের বাংলা, ইংরেজি দুইটা সাইটই এসেছে। সৃষ্টি, সু-কিশোরী এবং ফুলকুড়ি তিনটি প্রজেক্ট নিয়ে একইসাথে কাজ করছি।” বলেন ফারজানা আক্তার।

ওমেন্সকর্নার নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “স্বপ্ন দেখি শুধু বাংলাদেশ না ওমেন্সকর্নার ইন্টারন্যাশনালি কাজ করবে। বাংলা সাইটে বাংলাদেশিরা (কলকাতা মানে যারা বাংলা জানেন সকলেই) কাজ করবে, ইংরেজি সাইটে বাহিরের মানুষজন বা যারা ইংরেজি নিয়ে কাজ করতে চায়।”
সর্বশেষ তিনি বলেন, “প্রতিটি দেশেই ওমেন ইমপাওয়ারমেন্ট নিয়ে কাজ হয়। আমরা ‘সৃষ্টি’তে দেশী প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করি। অন্য দেশের মানুষের আমাদের সৃষ্টির আন্ডারে তাদের দেশী প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করবে। স্বপ্ন অনেক বিশাল। …আপাতত মেইন টার্গেট ওমেন্সকর্নারকে বাংলাদেশের প্রতিটা আনাচে-কানাচে পৌঁছে দেওয়া। ওমেন্সকর্নার দীর্ঘজীবী হোক। আমাদের সকলের স্বপ্ন সত্যি হোক। বাংলাদেশের প্রতিটা মেয়েই কোনো না কোনভাবে ওমেন্সকর্নারের সাথে যুক্ত হোক। ওমেন্সকর্নারের সেবা নিক। ভালো থাকুক। স্বস্তিতে থাকুক।”

