যুদ্ধাপরাধী কায়সারের মৃত্যু পরোয়ানা জারি

যুদ্ধাপরাধী কায়সারের মৃত্যু পরোয়ানা জারি

উত্তরদক্ষিণ | বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০ | আপডেট: ১৩:৪০

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা ও সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার সাঈদ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকালে সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি তারা হাতে পান। “নিয়ম অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আমরা মৃত্যু পরোয়ানা জরি করেছি। সেই পরোয়ানা কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকার ডিসি অফিসে অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।”

লাল শালু কাপড়ে মোড়ানো সেই মৃত্যু পরোয়ানা কারাগারে পৌঁছানোর পর কারা কর্তৃপক্ষ আসামি সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে তা পড়ে শোনাবে।

সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার এখন ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবেন। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন না করলে যে কোনো দিন রায় কার্যকর হতে পারে।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউয়ের আবেদন করে সাজা কমানোর নজিরবিহীন। এর আগে ফাঁসি কার্যকর হওয়া সব যুদ্ধাপরাধী রিভিউ আবেদন করেও সর্বোচ্চ সাজার রায় বদলাতে পারেনি।

রিভিউ আবেদন খারিজ হলেও অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন সৈয়দ কায়সার। তিনি যদি প্রাণভিক্ষা না চান এবং চেয়েও যদি ক্ষমা না পান, তাহলে রায় কার্যকরের ক্ষণগণনা শুরু হবে। রায় কার্যকরের আগে তিনি শেষবারের মতো পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন।

২০১৩ সালের ১৫ মে ট্রাইব্যুনাল কায়সারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে সেই রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় মুসলিম লীগের এই সাবেক নেতাকে। বয়স ও স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্রাইব্যুনালে তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেয়।

যুদ্ধাপরাধের ১৬টি ঘটনায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে পরের বছর ২ ফেব্রুয়ারি সৈয়দ কায়সারের বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। সেই বিচার শেষে ২০১৪ সলের ২৩ ডিসেম্বর তার মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে।

সেই রায়ের পর একাত্তরের এই যুদ্ধাপরাধীকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন। কিন্তু চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়েও তার ফাঁসির রায় বহাল থাকে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading